বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে কাশফুলের শুভ্রতায় তারুণ্যের উৎসব

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

শরতের শুভ্রতায় কাশফুলের স্নিগ্ধতার অবগাহন, নিঃশব্দ ভালোবাসা আর প্রকৃতির নিরিবিলি শান্ত সৌন্দর্যের হৃদয়ে স্পর্শ করে প্রশান্তির ছোয়া।

শুভ্রতার নরম ছোয়া মন-মননে ঢেউ তোলে প্রকৃতির গভীর ভালোবাসার স্পূরণ। বাতাসে রোমন্থিত হয়ে ওঠে স্মৃতির ঢেউ। দখিনা মৃদু মন্দ বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাশফুল ছুঁয়ে যায় হৃদয়, জাগিয়ে তোলে আবেগ, কাব্য আর প্রেমের অনন্য অনুভব।

চরফ্যাশনের মেঘনা নদীর তীরে বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক সংলগ্ন কুইন আইল্যান্ড চত্বর যেন শরতের এক জীবন্ত সমীরণের রোমান্টিক উপাখ্যানের ফ্ল্যাট-প্লট। কাশফুলের স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে নয়াভিরাম কল্পছায়ায় তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় জেগে উঠছে উৎসবের আবহ। প্রিয় গান, প্রিয় নৃত্য, তালের ছন্দে, আবার কেউ নিঃশব্দে ডুবে আছেন প্রকৃতির নরম ছোয়ার গভীর সৌন্দর্যে। শুধু একটি ফুলের শুভ্রতা ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ঋতু উৎসব। যেখানে প্রকৃতিও যেন মানুষকে আপন করে টেনে নিচ্ছে তার হৃদয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মানুষ ছুটে আসছে এই কাশবনের কন্যার রূপ দেখতে। নদীর ধারে বিস্তৃত সাদা কাশফুল যেন এক অনন্ত শুভ্র প্রান্তর। বাতাসের কোমলতায় দুলে ওঠা প্রতিটি কাশগুচ্ছ স্পর্শ করছে দর্শনার্থীদের হৃদয়। শরতের বিকালে এ কাশবনে কেউ বন্ধুদের নিয়ে বসেছেন আড্ডায়, কেউ গানে গলা মিলাচ্ছেন, আবার কেউবা আনন্দে নেচে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অনন্য রূপ।

প্রভাতের শিশিরভেজা আলো থেকে শুরু করে গোধূলির লালিমা পর্যন্ত মুখরিত থাকে এ কাশবন প্রান্তর। শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয়, পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন নানা বয়সের মানুষ। কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন প্রকৃতির স্নিগ্ধতার সমীরণে, কেউবা ক্যামেরার লেন্সে বন্দি করছেন অনন্য মুহূর্ত। শুভ্র কাশফুলে ভরে উঠেছে প্রকৃতি, আর এই শুভ্রতা ছুঁয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের মন।

মেঘনা নদীর তীরে বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক সংলগ্ন কাশফুলে অবগাহন করা বরিশাল বিএম কলেজের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষার্থী নুসাইবা তারান্নুম বলেন, 'সারা বছর মানুষ যেমন আনন্দ-ভ্রমণে নানা দর্শনীয় স্থানে ছুটে যায়, তেমনি শরতের এই বিশেষ সময়ে বেতুয়া প্রশান্তি পার্কের কাশবনই হয়ে উঠেছে তরুণ-তরুণীদের উৎসবের প্রিয় ঠিকানা। বন্ধুদের সঙ্গে নাচে-গানে, হাসি-আড্ডায় আমরা পালন করছি শরতের রঙিন উৎসব। এখানে আসলে শরৎ উৎসবের চিরন্তন আমেজ পাওয়া যায়।

শশীভষণ বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক মনির হোসাইন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, শরৎ উৎসব পালনকারী কাশফুল দেখলেই শরতের আসল আমেজটা অনুভব করা যায়। কাশফুল মানেই প্রকৃতির এক মায়াবী সৌন্দর্যকে বর্ণনা করা। আজকাল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কাশফুলের প্রতি গভীর আবেগ এবং ভালোবাসা দেখা যায়। বিশেষ করে প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য কাশফুল যেন রোমাঞ্চের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শরতের নরম আলো, বিকালের মিষ্টি হাওয়া, আর প্রিয় মানুষকে নিয়ে কাশফুল বনে ঘুরতে যাওয়া বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসেন। প্রকৃতির এই রূপের কাছে এসে তারা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হন।

অন্যদিকে ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সভাপতি কোস্টাল সাংবাদিক প্রভাষক শাহাবুদ্দিন রিপন শান বলেন, কাশফুলের সাদা-শুভ্রতার দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এর নরম ছোয়া অনন্য। কাশফুলের সাদা শুভ্রতা আমাদের মনকে সবরকম গ্লানি ও জটিলতা থেকে মুক্ত করে এক নির্মল প্রশান্তির পাঠ শেখায়। শরতের বাতাসে কাশফুলের দোলা যেন প্রকৃতির ক্লাসরুমে এক নীরব কবিতা, যা শিক্ষার্থীদের কোমল হৃদয়ে সৌন্দর্যের বোধ জাগায়।'