যমুনার তীব্রভাঙনে বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন থামছেই না। এরমধ্যেই শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি বহু জায়গা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গনের মুখ থেকে অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি অনত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এ ভাঙ্গনে বহু পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনার পানি ক্রমাগতভাবে কমতে থাকায় যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, কাজিপুর, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভয়াবহ ভাঙন থামছেই না। বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের কুরশি, গালা, জালালপুর, কৈজুরী, বারপাকিয়া ও ধীতপুর গ্রামের ৪ ষতাধিক বসতবাড়ি ও জায়গা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুরশি, বারপাকিয়া ও ধীতপুর গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারের জায়গাজমি বিরীন হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন এখন গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা ত্রাণ ও দূর্যোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর ও বারপাকিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রচন্ড ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এরমধ্যেই চালসহ নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের এ বিতরণ কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যেই আবারও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। এদিকে এ অঞ্চলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে অতি-সম্প্রতি স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ভাঙন রোধের দাবি জনিয়ে স্বারকলিপিও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এ ভাঙ্গন রোধে এখনও ব্যবস্থা নেয়নি পাউবো। এ কারণে অব্যাহত ভাঙনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এছাড়া ওই উপজেলার চরাঞ্চলের মোহনপুর, হাতকোড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙ্গনের কথা শুনেছি। তবে এ ভাঙ্গন রোধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অবশ্য এ ভাঙন বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্দেশনা পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, এ উপজেলার বিশেষ করে সোনাতনী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কয়েকদিন ধরে এ চরের কয়েকটি গ্রামে ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এ ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মাঝেমধ্যেই পরিদর্শন করা হচ্ছে। এ ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ ভাঙন রোধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।