দলবদ্ধ ধর্ষণের পর শরীরে মরিচের গুঁড়া, গ্রেপ্তার চার

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও শরীরে শুকনো মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন— সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল কাপালিপাড়া গ্রামের ইয়াসিন (২১) ও গোবিন্দল তালতলা এলাকার শাহাদাত হোসেন (২২)।

মামলার অপর দুই আসামি গোবিন্দল গ্রামের লালন মিয়া (২৬) ও জৈল্যা গ্রামের মাসুদ (২২)। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার ভোরে কাপালিপাড়া ও তালতলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াসিন ও শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহার ও তদন্তসূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে বলধারা ইউনিয়নে নিজ বাড়ির টয়লেট থেকে বের হন ওই গৃহবধূ। এ সময় মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি কৃষিজমির ড্রেনে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে তার হাত-পা বেঁধে জমির আইলে ফেলে রেখে চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শুকনো মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ঘটনার পর মামলা হলে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম (পিপিএম) তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুইজনকে আদালতে পাঠানো হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে।