মুন্সীগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মাসুদ রানা, মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যত্রতত্র কুকুরের অবাধ বিচরণ এবং হিংস্র আচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, বাজারের মোড়, ময়লা ফেলার স্থান এবং দেওভোগ, খালিষ্ট, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, কলেজপাড়া, মাঠপাড়া, উত্তর ইসলামপুর, দক্ষিণ ইসলামপুর, মেথরপট্টি, মানিকপুরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডেরপাড়া-মহল্লার গলিতে দল বেঁধে কুকুর ঘুরে বেড়ায়। এছাড়াও পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকায় কুকুরের উৎপাত বেশি। রাতের বেলা তো বটেই, দিনের বেলাও এসব কুকুরের কারণে একা চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় কুকুরগুলো পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের তাড়া করে, যার ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সময়মতো পরিষ্কার না করায় সেখানে কুকুরের আনাগোনা বেশি থাকে। এছাড়া, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কুকুর নিধন আইনিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বা পৌরসভা কুকুর মারতে পারছে না। তবে কুকুরের বংশবৃদ্ধি রোধে বন্ধ্যাত্বকরণ বা ভ্যাকসিনেশনের (জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান) কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হলে জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি যেমন বাড়বে, তেমনি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল আরও বিঘ্নিত হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরদার করা এবং কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সিও মো.তওহিদুল ইসলাম বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কুকুর নিধন আইনিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বা পৌরসভা কুকুর মারতে পারছে না। যতটুকু জেনেছি প্রায় ৮ বছর আগে পৌরসভা থেকে কুকুরের বংশবৃদ্ধি রোধে বন্ধ্যাত্বকরণ বা ভ্যাকসিনেশনের (জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান) ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কুকুরের বংশবৃদ্ধি রোধে বন্ধ্যাত্বকরণ বা ভ্যাকসিনেশনের (জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকাদান) ব্যবস্থা করা উদ্যোগ নেওয়া হবে। পৌরসভার কোনো কোনো এলাকায় কুকুরের অবাধ বিচরণ এবং হিংস্র আচরণের শিকার হচ্ছে মানুষ সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।
