নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ

জায়গা সংকুলান হচ্ছে না হাসপাতালে

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোশতাক আহমেদ শাওন, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ও মৃতের সংখ্যা। এরইমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ৩৮৭ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন। জেলার দুটি সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ ব্যাপক আকারে বেড়েছে। বিছানা, মেঝে, বারান্দা কোথাও জায়গা মিলছে না। এতে চিকিৎসকদের যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছে, তেমনি রোগীরাও পড়ছেন নানান ভোগান্তি আর বিড়ম্বনায়।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের পুরো বছরে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৯৮ জন। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই সেই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ১১৯ এবং জুলাইয়ে ৩৫ জন।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) নাজমুল হাসান বিপুল জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অনেক বেশি। হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বারান্দা ও মেঝেতে জায়গা করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর এ হাসপাতালে ৩৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বারান্দা ও মেঝেতে অন্তত ১০ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে ২৩ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বন্দর কুড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম (৩১) স্ত্রীকে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। গত তিনদিন ধরে তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। একইভাবে দেওভোগ মাদ্রাসা এলাকার মশিউর রহমানও তিনদিন ধরে মেঝেতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মশিউর রহমান বলেন, ওয়ার্ডে শয্যা না থাকায় বারান্দার মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে গরমসহ বিভিন্ন অসুবিধা হলেও চিকিৎসার জন্য এভাবেই থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নাজমুল হাসান বিপুল বলেন, কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট মৌসুমের বাইরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। রোগীদের মশারি ব্যবহার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর অন্য ব্যক্তির মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যে নাসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত মশক নিধন, ওষুধ প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে চলতি বছর নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। তবে জেলার কয়েকজন বাসিন্দা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে গত ২৮ আগস্ট রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের চেইনম্যান আবু ছিদ্দিক (৫৮) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারাদেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেশি। ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ১০০ শয্যার হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।