পুলিশের হাতকড়া নিয়ে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তারের পর পলাতক ওই আসামি আওয়ামী লীগ নেতা এবং কুড়ালগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু সিদ্দীককেও (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের একটি মন্দিরের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশ। থানায় নেওয়ার পথে তাঁর পরিবারের সদস্য সহ কয়েকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেন বলে পুলিশের অভিযোগ। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা পুলিশের একটি মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ৪ জন নারীসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে নয়টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ হালদার (৩৮), সেলিম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (১৯), হারুনা রশিদের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৯), মিলনের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০), নবকুমারীর স্ত্রী কণা রাণী (২৫), খোকনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪০), সদর মন্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) ও ফুলন হালদার (৩২)।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নির্দেশে একদল পুলিশ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি মৃত ওমর আলীর ছেলে কুলুগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার পরিবারের সদস্য সহ এলাকার লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে, আসামি আবু সিদ্দিককে ছিনিয়ে নিয়ে । এর পর সে হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হয়। ৮ জনকে গ্রেপ্তারের পর ছিনিয়ে নেওয়া আসামি আবু সিদ্দীককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
