কুষ্টিয়ায় দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৫৪

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এ.এইচ.এম.আরিফ,কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স। উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু, সংক্রমিত হচ্ছেন মানুষও। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরে গেল দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৫৪ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৪৭ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অসুস্থ গবাদিপশু জবাই, কাঁচা মাংস কাটাকাটি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছেরদিয়াড় গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম পাশের বাড়ির একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে বাঁচানো যাবে না দেখে সেটি জবাই করা হয়।

ওই মাংস কাটাকাটির কাজে অংশ নেন তিনি। তখনো বুঝতে পারেননি, অসুস্থ পশুটির সংস্পর্শই তাকে ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক সংক্রামক রোগ অ্যানথ্রাক্সের দিকে।

গরু জবাইয়ের দুই-তিন দিন পর রফিকুলের হাত ও আঙুলে ছোট ছোট গুটি ও ফোস্কার মতো দাগ দেখা দেয়। কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলো বড় হয়ে ক্ষতে পরিণত হয়। পাশাপাশি ক্ষতের মাঝখান কালো হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেখা দেয় তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথা। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ চর্মরোগ মনে করে গুরুত্ব না দিলেও ক্ষত দ্রুত বাড়তে থাকায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তিনি।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা রফিকুলকে জানান, তিনি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করার পর মাংস কাটাকাটি ও ধোয়ামোছা করেছি। তখন বুঝতে পারিনি এভাবে রোগ ছড়াতে পারে। কয়েক দিন পর হাতে গুটি ওঠার পর তা কালো হয়ে ঘায়ে পরিণত হয়। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।"রফিকুলের মতো আরো অনেকেই একই উপসর্গ নিয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলায় দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৫৪ রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অসুস্থ গবাদিপশু জবাই, কাঁচা মাংস কাটাকাটি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এর আগে, দৌলতপুর উপজেলার কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকাকে বিশেষ করে ভারত সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলোকে অ্যানথ্রাক্সের 'রেড জোন' বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে, বর্তমানে রোগটির বিস্তার কেবল ওই এলাকাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকেও আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।