বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে জিয়া পরিষদের এক নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছেন জিয়া পরিষদের ওই নেতা। ঘটনাটি গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চক রোয়াইড় গ্রামে ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের আহত তিনজনই আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আহতরা হলেন- রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন আলম ও তার স্ত্রী মাহবুবা খাতুন। অপরপক্ষের আক্কেলপুর উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান সুমন। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় চক রোয়াইড় নিজ গ্রামে আজাদুলের দোকানের সামনে আলমগীর হোসেন আলম ও আতিয়ার রহমান সুমনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই সময় আলমগীর হোসেনের স্ত্রী মাহবুবাও সেখানে আসেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁরা তিনজন অহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন।

আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে বালু ও মাটি কাটা বন্ধ করতে তিনি গ্রামবাসীদের পক্ষ নেন। এই ঘটনায় গতকাল শনিবার উপজেলা বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকের বিষয়টি গ্রামের লোকজনদের জানানোর জন্য গ্রামের ভিতরে গেলে আতিয়ার রহমান মাটি ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা করে আমার মাথায় এবং আমার স্ত্রীর চোখের নিচে ছুরিকাঘাত করে। এর আগে সে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। তবে আতিয়ার রহমান সুমন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আলমগীর হোসেন মাদক ব্যবসা করেন। গত এপ্রিল মাসে আমরা তাঁকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলাম। এ কারণে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে গেলে আলমগীর আমাকে মারধর করেন। এতে আমি বাম হাতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি বালু উত্তোলনের সঙ্গেও জড়িত নই।

রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ছোয়াত বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গতকাল শনিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। এর আগেই তারা বিবাদে জড়িয়েছে। আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।