ছাউনি দখল করে ব্যবসা যাত্রীদের দুর্ভোগ

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীতে কড়িকান্দি-বিশনন্দী ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাট দিয়েই বাঞ্ছারামপুর উপজেলাবাসীর ঢাকা যাতায়ত। এই ঘাটের ফেরিতে থাকা যাত্রী ছাউনিই এখন হয়ে ওঠেছে যাত্রীদের বিষফোঁড়া। প্রশ্ন উঠেছে হাজার হাজার যাত্রীদের নিয়ে ফেরীর যাত্রী ছাউনি টি কি সঙ্গে সেবা দেয়ার জন্য না-কি ব্যবসার আড়ৎ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে! রীতিমতো যাত্রী ছাউনি দখল করে প্রকাশ্যে ব্যবসা চলছে। গত শনিবার ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন দরিদ্র বৃদ্ধা সালমা আক্তার (৬৫)। পা ভেঙে গেছে। কিন্তু, দোকানের ছাউনিতে জায়গা সংকটের কারনে তার বসার ঠাঁই হয়নি।

আরেক বৃদ্ধ সিরাজ মিয়া (৭৫) অসম্ভব তীব্র রোদে হাসফাস করছিলেন। কিন্তু ছাউনির যে সামান্য টুকু বসার বেঞ্চ অবশিষ্ট, তাতে তিনি দখল নিতে পারেননি। সরেজমিন দেখা যায়, ফেরি পারাপারের সময় সাধারণ মানুষকে দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রী ছাউনির বাহিরে। এই ছাউনি দখল করে আছে ৪টি স্থায়ী ও ৭টি ভ্রাম্যমাণ দোকান। সেখানে গুটি কয়েক মানুষের ঠাঁই মিললেও বেশিরভাগ মানুষেরই থাকতে হচ্ছে খোলা অংশে। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের। তীব্র রোদে একটু ছায়া শীতল আশ্রয় নেই যাত্রীদের। বৃষ্টি এলেও ভিজে যাওয়া অবধারিত। প্রতিনিয়ত এমন ভোগান্তি নিয়েই শত শত যাত্রী পারাপার হচ্ছে এই ফেরি দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ভোগান্তির কথা হরহামেশাই বলছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, ফেরিতে থাকা যাত্রী ছাউনিতে দোকান থাকার কারণেই এমন সব ভোগান্তি।

একজন পথযাত্রী জানান, দোকানগুলোতে প্রতিটি পণ্যের মূল্য দ্বিগুণ রাখা হয়। পরিবেশও নোংরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা ফেরির ছাউনিটি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে, যার ফলে রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে মানুষকে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর আঞ্চলিক সড়কের উপর নির্ভর করে এখানে ৪ টি ফেরী প্রতিদিন চলাচল করে। কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত এই ৪টি ফেরীতে। এর উপর

রাতের বেলায় পুরো ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিং বা আলোর ব্যবস্থা নেই, যা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ইজারাদাররা প্রতিমসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া নেন। ৪ টি ফেরিতে ভাড়া পান ৮০ হাজার টাকা। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল এমরান খান জানান, আমি শিগগিরই এই সমস্যা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব। এ বিষয়ে ফেরীর ইজারাদার মাহবুবের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।