যমুনার ভাঙনে ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ সঞ্চালন লাইন

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় গেল এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীতে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়া বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিশাল জনপদ ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়েছে গেছে। নদীর তীরের হাজার হাজার মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, বেড়া উপজেলার কল্যাণপুরের ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের একটি পিলার গত বুধবার রাতের আঁধারে নদীতে বিলীন হলে বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক।

পরে ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্চালন লাইন মেরামত শেষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ আপাতত স্বাভাবিক হলেও চরের হাজার হাজার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কিত।

এলাকাবাসী জানান, গত এক সপ্তাহে বেড়া উপজেলার চরকল্যাণপুর, চর সিংহাসন, বক্তারপুর, নেউলাইপাড়ার এলাকায় নদীভাঙনে শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি, গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে।

কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন ঝুঁকিতে রয়েছে। যেভাবে নদীভাঙন চলছে, তাতে যেকোনো সময় কল্যাণপুর উপকেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা বুলবুল হাসান জানান, প্রতিবছর এ এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারাভাবে কিছু জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলে লোক দেখানো কর্মসূচি গ্রহণ করে। এভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও ভাঙন রোধের প্রকৃত চিহ্ন পরে খুঁজে পাওয়া যায় না।

কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) মো. আলাউদ্দিন জানান, গত বুধবার রাতে আকস্মিক ভাঙনে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমারসহ একটি খুঁটি (পোল) নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তিনি আরও জানান, উপকেন্দ্রটি থেকে যমুনা নদী ২৫০ মিটার দূরত্বের মধ্যে চলে এসেছে। খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি।

এব্যাপারে পাবনার বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপবিভাগের প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী বলেন, কল্যাণপুরসহ কয়েকটি জায়গায় যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙনের খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে।