মেয়াদ উত্তীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জোড়াতালির মেরামতে মেয়াদ উত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর ১৮৮৭ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সেতুটির মেয়াদ ৪০ বছর আগে শেষ হলেও নড়বড়ে এই সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ যানজট। সেতুতে যানবাহন আটকে গেলে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। ফলে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রোববারেও সেতুটির স্টিলের অংশের একটি পাটাতন দেবে যাওয়ার ফলে ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দেবে যাওয়া স্থানে সতর্কতার জন?্য একটি লাল পতাকা টানানো হয়। মেরামতের জন?্য পর দিন সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে যানচলাচল। এছাড়াও সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে এবং ট্যাংক জাম (লোহার পাত) খুলে গেছে। কোথাও কোথাও জোড়া তালি দিয়ে মেরামত করলেও কিছু দিন পর লোহার পাতি খুলে যাচ্ছে। সেতুটি নিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। স্থানীয়দের ভাষ?্য,২০১২ সালে সোনাহাট স্থলবন্দর চালু হওয়ার পর থেকে যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যায়। ফলে সেতুটিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে থাকে, যা নিয়মিত ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ। এদিকে, সোনাহাট স্থলবন্দর এবং ভুটানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম ব্যাহত না হয় সেজন্য ঝুঁঁকিপূর্ণ সেতুর দক্ষিণে ২০১৯ সালে ৬৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরাতন সেতুর পাশে নির্মিত নতুন সেতুটি ৭ বছর ধরে কাজ চলছে। সেতুর কাজ শেষ হতে আর কতদিন লাগবে প্রশ্ন স্থানীয়দের?
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির ফাহিম জানালেন, নিয়মিত এ সেতু দিয়ে কলেজে যাতায়াত করেন তিনি। সেতুটি বেহাল থাকায় সময়মতো কলেজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি কারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, ভাঙা ও নড়বড়ে সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্থলবন্দরের পণ?্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়ছি আমরা। নতুন সেতুর কাজ বিলম্বিত হওয়ায় ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
