ঢাকায় হত্যা করে ডিমলায় মাটিচাপা ২০ দিন পর লাশ উদ্ধার
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

ঢাকায় রাকিবুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার পর নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামুন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) মামুনের বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার বিকালে কাফরুল থানা ও ডিমলা থানা পুলিশের যৌথ দল ওই লাশ উদ্ধার করে। পরে নীলফামারী জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হত্যার শিকার রাকিবুল ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার উদ্যমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মামুন মিয়া ডিমলা উপজেলার ছাতনাই বালাপাড়া (বসুনিয়াপাড়া) এলাকার আফসার আলীর ছেলে। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল কোচিং করার সূত্রে মোবাইল ফোনে মামুন মিয়ার সঙ্গে রাকিবুলের পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আসামিরা রাকিবুলকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রাকিবুলের লাশ একটি বড় কাগজের কার্টনে ঢোকানো হয়। পরে কালো পলিথিন, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ও কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রিকশা ও বাসযোগে ডিমলায় মামুনের নিজ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে গোবর ফেলার স্থানসংলগ্ন মাটির নিচে লাশটি পুঁতে রাখা হয় ।
এদিকে, রাকিবুল জীবিত রয়েছেন দাবি করে তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামিরা। পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাকিবুলের পরিবার ১৩টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাকিবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএমপির কাফরুল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) শ্যামল কুমার হালদার ঢাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী লাশ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সকালে কাফরুল থানা পুলিশের একটি দল ডিমলা থানায় উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধারে আইনি সহযোগিতার জন্য অধিযাচন করে। পরে কাফরুল ও ডিমলা থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল মামুনের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে রাকিবুলের গলিত লাশ উদ্ধার করেন। ডিমলা থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
