সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়কের অবরোধের ডাক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় দুটি সংগঠন। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের এ কর্মসূচিতে পর্যটনকেন্দ্রটিতে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশংকা ।
বাঘাইছড়ি সাজেক দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা দীঘিনালা-বাঘাইহাট হয়ে সাজেকে যাতায়াত করেন। সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পর্যটকবাহী গাড়ি এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রভাব এর আশংকা কররেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আগে থেকে রিসোর্ট ও কটেজ বুকিং দেওয়া পর্যটকদের ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা রুটে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াতেও ভোগান্তির আশংকা রয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। সংগঠন দুটির নেতারা সাজেক ইউনিয়নসহ বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার যানবাহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে সরিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বিবৃতিতে বলেন, এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিবাদকারীদের দোকানপাট ও বাড়িঘরে তল্লাশি এবং হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সংগঠন দুটি। সমাবেশে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বিনয় চাকমা, সাজেক সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক জিকো চাকমা ও সহ-আহ্বায়ক মিলন চাকমাসহ স্থানীয় নেতারা। গতকাল শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটির নেতারা জানান, গত ৮ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এর প্রতিবাদে অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সাজেকের ভুয়াছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলং ক্যাম্পের আশপাশে জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, । এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাচলংয়ের মন্দিরছড়া এলাকায় আঞ্চলিক দুই সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলিতে আট বছর বয়সী কস্মিকা ত্রিপুরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাটি সাজেক এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
