কুষ্টিয়ায় বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর 'বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস' পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুমারখালি উপজেলার কল্যাণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলনের আয়োজনে 'বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস' উৎযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে 'নারীই বীজের রক্ষক ও বৈচিত্রের ধারক, নারীর জ্ঞান-কৃষির প্রাণ, বীজ থাকুক নারীর হাতে নয়াকৃষি কৃষকের বাড়ি, মাঠে,নারীর কাজের স্বীকৃতি চাই বিভিন্ন স্লোগান লেখা ফেস্টু নিয়ে স্থানীয় নারীরা একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। র‍্যালিটি কল্যাণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শুরু করে কল্যাণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে উদ্বোধনী সঙ্গীত শেষে আলোচনা সভা শুরু হয়। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করবেন নবপ্রাণ আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় নারী কৃষক আলেফা বেগমের সভাপত্বিতে এবং সীমা দাস সীমু'র সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উবিনীগ-এর নির্বাহী পরিচালক ও অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরে সফুরা ফেরদৌস। সভায় অন্যানের মধ্যে কৃষক সাথী বেগম, তাতী-মুক্তা বেগম, ঋষি-পিংকী রানী দাস, কুমার-বাদলী রানী পাল, দাইমা-আলেয়া বেগম, ইউপি সদস্য-মুসলিমা খাতুন, কল্যাণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালমা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার বলেন "খাদ্য উৎপাদনে নারী কৃষকের অবদান, জ্ঞানের সুরক্ষা ও ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর মধ্যে আদিবাসী নারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ১৯৯৫ সালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত নারীদের চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে গ্রামীণ নারীদের সম্মানে একটি বিশেষ দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গ্রামীণ নারীদের ভূমিকা তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৫ অক্টোবরকে যা 'বিশ্ব খাদ্য দিবস'-এর ঠিক আগের দিন 'বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস' হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেয়া হয়। জাতিসংঘ ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই দিবস পালন করছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে: গ্রামীণ নারীদের সহায়তায় বিশ্বব্যাপী আহ্বান

তিনি আর বলেন, কৃষক ও উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সকল সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, গ্রামীণ নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন। এই দিবসটি তাঁদের অবদানের ওপর আলোকপাত করার পাশাপাশি অধিকতর সমতা ও সহায়তার পক্ষে জোরালো বার্তা তুলে ধরে। এবার বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবসের সাথে যুক্ত হচ্ছে জাতিসংঘ কর্তৃক ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ঘোষণা। নারীরা কৃষি উৎপাদনসহ খাদ্য উৎপাদনের প্রতিটি কাজে যুক্ত থাকলেও তাদের স্বীকৃতির অভাব রয়েছে।

নয়াকৃষি আন্দোলনের বেশির ভাগ সদস্য নারী এবং তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাসায়নিক সার-কীটশাক ছাড়া নিজের হাতে রাখা স্থানীয় জাতের বীজ দিয়ে ফসল উৎপাদন করা, দেশীয় গরু-ছাগল লালন-পালন করা, দেশীয় মাছ রক্ষায় জলাশয় ও হাওর বাওর রক্ষার চেষ্টা করার কাজে। তাই নয়াকৃষির মতো কৃষি ব্যবস্থায় যারা আছেন তাদের উচিত ক্ষতিকর বীজ (হাইব্রিড, জিএমও) বর্জন করা এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করে জনগণকে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করা এবং সুস্থ জাতি গঠনে সহায়তা করা। আমরা ঘোষণা দিচ্ছি এ বছর আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালনের মাধ্যমে গ্রামে গঞ্জ্রে মানুষের কাছে নারী কৃষকদের বার্তা পৌঁছে দেবো এবং আগামি ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে একটি নারী কৃষক সম্মেলন করে নারী কৃষকদের দাবি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হবে। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরী বিভিন্ন পন্য ষ্টল ঘুরে দেখেন।