রুশ বাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রাণ হারালেন সাগর
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
অভাবের তাড়নায় কিশোর বয়স থেকেই সংসারের চাকা সচল রাখতে রিকশা ও ভ্যান চালিয়েছিলেন সাগর। ভাগ্য বদলের আশায় ধারদেনা করে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর রাশিয়ায়। সেখানে একটি বেকারিতে ভালো বেতনের চাকরিও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দালালের লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে সেই চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়ে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারাতে হলো কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ২৪ বছর বয়সী তরুণ মো. সাগরকে।
উপজেলার পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মো. কবির হোসেনের ছোট ছেলে সাগর। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় লেখাপড়ার গণ্ডি প্রাথমিকেই ফুরিয়েছিল। পেটের টানে কিশোর বয়স থেকেই রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। স্থানীয় একটি রড-সিমেন্টের দোকানে ভ্যান চালানোর সুবাদে দোকানের এক ম্যানেজারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই ম্যানেজার পরবর্তীতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে মাত্র ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে সাগরকে রাশিয়া পাঠান।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর একটি বেকারিতে কাজ নেন সাগর এবং প্রতি মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতন পেতে শুরু করেন। কিন্তু সেখানে থাকা অবস্থায় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। ওই দালাল রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং এককালীন ৩০ লাখ টাকার লোভ দেখালে চলতি বছরের মে মাসে বেকারির চাকরি ছেড়ে দেন সাগর। দালালের ফাঁদে পা দিয়ে তিনি সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেন এবং এর পরপরই পরিবারের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার এক বন্ধু সাগরের বোনের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে জানান যে সাগর আর বেঁচে নেই। এই মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই শোকের মাতমে ভারী হয়ে উঠেছে সাগরের বাড়ি। শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তাঁর মা। অসুস্থ বাবা কবির হোসেনও ছেলেকে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল জানান, সাগর যখন বেকারির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিল, তখন তিনি তাকে বাধা দিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, অপ্রতুল পড়াশোনা নিয়ে সাগর কীভাবে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে। কিন্তু দালালদের ভুল বুঝিয়ে ও লোভ দেখিয়ে তাকে যুদ্ধের মাঠে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাগর তার চাচার অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকা পাঠালেও এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না এবং খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
