পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির

দেড় শতাব্দীর সম্প্রীতির বন্ধন

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহজালাল ভূঞা, ফেনী

এক পাশে আজানের ধ্বনি, অন্য পাশে পূজার ঘণ্টা। মাত্র কয়েক গজের ব্যবধানে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একটিতে ইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলমান মুসল্লিদের নামাজ আদায়, অন্যটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনা। ধর্মীয় আচার পালনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার এই চিত্র ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদ ও জয় কালী মন্দিরকে দিয়েছে অনন্য পরিচিতি। প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে পাশাপাশি থাকা উপাসনালয় দুটি হয়ে উঠেছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতীক। একদিকে মসজিদে আজানের ধ্বনি অন্যদিকে মন্দিরে উলুধ্বনির আওয়াজ শোনা যায় নিয়মিত। ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদ ও জয় কালী মন্দির। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মন্দিরে ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনি বন্ধ রাখা এবং অন্য ধর্মের উপাসনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চর্চা এই সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৭৬ সালে ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ফেনী শহরে মসজিদ ও মন্দিরের জন্য ৫০ শতাংশ করে জমি বরাদ্দ দেন। সেই থেকে পাশাপাশি অবস্থান করা উপাসনালয় দুটি দীর্ঘ সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে। সময়ের পরিবর্তন হলেও মুসলিম হিন্দু দুই সম্প্রদায়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন স্থানীয়রা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জয় কালী মন্দিরে ভিড় করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম যেন একে অন্যের প্রার্থনার বিঘ্নের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার কথা জানান মসজিদ ও মন্দির কমিটির লোকজন।

ফেনী বড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি বয়স্ক নুরুল আলম ভূইয়া জসিম বলেন, ছোটবেলা থেকেই পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির দেখে আসছেন। পূজার সময় নামাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মন্দিরে বাদ্যযন্ত্র ও উলুধ্বনি বন্ধ রাখা হয়। এতে নামাজ আদায়ে তাদের কোনো সমস্যা হয় না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবেশ বজায় রয়েছে। ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত নাগ বলেন, ফেনীতে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পাশাপাশি মসজিদে নামাজ ও মন্দিরে পূজা-অর্চনা আমাদের সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করে।

আমরা চাই,এই সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধন সবসময় অটুট থাকুক। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্র্যাস্টি অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, এখানে দুই ধর্মের মানুষের মাঝে সম্প্রীতি বজায় রেখে দীর্ঘদিন আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। এই সম্প্রীতি খুবই প্রশংসনীয়।