কক্সবাজার সৈকতে জনস্রোত দেড় শতাধিক প্রতিমার বিসর্জন

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

ঢাকের বাদ্য আর সিঁদুর খেলা শেষে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙ্গালী সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার। গতকাল বুধবার বিকালে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে 'বিজয়া দশমী তিথিতে' কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টের বালিয়াড়িতে বসেছিল সকল ধর্মের মানুষের যেন এক সম্প্রীতির বন্ধন। যেখানে সনাতন ধর্মের পূজারী ছাড়াও ছিল লাখো দেশী-বিদেশী পর্যটক। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে আনুমানিক তিন লক্ষাধিক মানুষের সম্প্রীতির সমাবেশে আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি সনাতনী হিন্দু সম্প্রায়ের লোকজনের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে দুর্গা দেবীর বিদায়ের বিষাদের ছায়া। সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে সনাতন ধর্মের মানুষের পূজারীতে বিজয়ের অশ্রু রেখে দুর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গা কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে গেলেন। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন 'কন্যারূপে' ধরায় আসেন দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। প্রতিবারের মতোই কক্সবাজার সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে সম্প্রীতি সমাবেশের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গার বিসর্জন দেয়া হয়েছে। কক্সবাজার ও পাশের জেলা বান্দারবান থেকে বিকাল ৩ টার পর থেকে বড় ট্রাকে করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে বাধ্যযন্ত্র বাজিয়ে প্রতিমা গুলো আসতে থাকে সৈকতে। এসব প্রতিমা বহনকারী ট্রাকের সাথে ছিল হাজারো ভক্ত। লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে ঘিরে বালিয়াড়িতে একের পর এক প্রতিমা রাখা হয়। আর তাতেই জনস্রোতে মিশে যায় সৈকতের উত্তরের শৈবাল, কবিতাচত্বর পয়েন্ট আর উত্তরের সি গাল, সুগন্ধা থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত। সৈকতে মানুষের ঢল নামে। যেখানে কমপক্ষে ৩ লাখের অধিক মানুষের সমাগমের মধ্যে বিকাল সাড়ে ৫টায় সৈকতের ঢেউতে 'মা দুর্গা কি, জয়' স্লোগানে মুখরিত হয়ে একে একে ভাসিয়ে দেওয়া হয় প্রতিমাসমূহ। যেখানে দেড় শতাধিক প্রতিমা বিসর্জনের তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু। সৈকতেরে উন্মুক্ত মঞ্চে সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সারা দেশে দুর্গাপুজা কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রমানিত হয় বাংলাদেশে কোথাও নিরাপত্তার সংকট নেই।

সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামিম আরা শপ্না, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ। সম্প্রীতি সমাবেশ শেষে শুরু হয় বিসর্জন। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সমুদ্র সৈকত ও আশ পাশের এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা।