বাঞ্ছারামপুরে তালা ভেঙে মাজারের দানবাক্স লুট

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আম্বর আলী শাহ মাজারের মূল ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্সের প্রায় ১ লাখ টাকা খোয়া যাওয়া ছাড়াও, আটটি কাঁসার পাতিল ও মাজারের বেশকিছু আসবাবপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে।

মাজার কমিটি বলছেন দিনরাত এখানে মাদকের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকে ও মাদকাসক্ররা মাদক সেবন করে। তারাই এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। এনিয়ে মাজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি ও ভক্তদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে, চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি জানান, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকার আম্বর আলী শাহ মাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। মাদকসেবিরা এমন কান্ড ঘটাতে পারে।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে এটিএম বাক্কী উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও চারপাশ দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান তিনি। বুধবার সকালে মাজারে গিয়ে দেখেন, মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং সামনের দরজা খোলা। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে মাজারের ভেতরে ও চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। তখন মাজারের দানবাক্সে থাকা টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

অভিযোগকারী এটিএম বাক্কি জানান, লুটেরারা মাজারের দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, ২০ হাজার টাকা মূল্যের আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হতে পারে। একটি ধর্মীয় স্থাপনায় তালা ভেঙে এভাবে অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগকে ঘিরে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মাজারের ভক্ত রিয়াজ ও স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, রাতের আঁধারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, কীভাবে তারা মাজারে প্রবেশ করেছে এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে পুলিশ তা দ্রুত তদন্ত করে বের করুক।

অভিযোগকারী বাক্কী জানান, ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আজ বুধবার বিকেলে (২১ অক্টোবর) বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে (বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা এসডিআর নং ২০৮৫) লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।