সেতু নির্মাণে দুই বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কলিমাজানি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু কাজ দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। একারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। থেমে থেমে কাজ করায় কত দিনে এ নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দানা বাধছে। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে কলিমাজানি নদীর ওপর ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের দরপত্র আহবান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পান মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী তারা ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে সেতুর কাজ শুরু করে। সেতুর মূল কাজের ৫০ ভাগ কাজ হওয়ার আগেই কাজটি বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের চাপের কারণে মাঝে মাঝে কাজ করে আবার থেমে যায়। এভাবে দুই বছর পার করে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শাজাহান পুনরায় সেতুর কাজ শুরু করেন। দুই বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মনে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই কাজ কবে শেষ হবে? তাদের ভোগান্তি আর কতদিন চলবে।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর দুই পাশ থেকে সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। মাঝখানে কিছু অংশ এখনো বাকি রয়েছে। খেয়াঘাট থেকে আগের মতই কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা নদী পারাপার হচ্ছে। তবে সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে খেয়াঘাট স্থানান্তর এবং নদী পারাপার আগের চেয়ে আরো কষ্ট সাধ্য হয়েছে। তবু মানুষের আশা যে, নদীর ওপর সেতু হবে সেই সেতুর উপর দিয়ে হেটে নদী পার হবে।

এলাকাবাসী জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচ ঢালাই একটি রাস্তা কলিমাজানি নদীর পাড় পর্যন্ত পৌছেছে। নদীর উত্তরপাড় থেকে খেয়া নৌকা পার হয়ে কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পথহারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। দক্ষিণপার থেকে খেয়া নৌকা পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা নিয়মিত যাতায়াত করছে। নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ হলে দ্‌ইু পাড়ের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে। কলিমাজানি, নয়াপাড়া, ভানুয়াবহ গ্রামের লোকজন কালিয়াকৈর উপজেলার আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সাথে যোগাযোগে মানসিক প্রশান্তি পাবে।

কলিমাজানি গ্রামের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে বলেন, অনেক আশা করেছি ব্রিজের ওপর দিয়ে হেটে নদীর ওপারে যাবো। কাজের যে গতি তাতে সেই আশা পূরণ হবে কিনা বলতে পারছিনা। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

সাব ঠিকাদার মো. পারভেজ বলেন, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কাজ পাওয়ায় এই কাজটিতে ভাটা পড়ে। তাছাড়া তাদের আর্থিক সংকটও হয়েছিল বলে শুনেছি। আমরা এখন কাজ চলমান রেখেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর মূল কাজ শেষ করতে পারবো। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, সেতুটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ভালভাবেই কাজ করে। হঠাৎ তারা কাজে গাফিলতি করছে। তবে অফিস থেকে তাদের চাপে রাখা হয় কাজের জন্য। বর্তমানে তাদের অংশীদাররা কাজ করছে। আশা করা যায় ব্রিজের মূল কাজ শেষ করতে আর বেশি সময় লাগবেনা। খুব দ্রুতই এলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ও ভোগান্তি লাঘব হবে।