নানা সংকটে নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার তিতাসের নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা ও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও জরাজীর্ণ ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার সংকটে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, একতলা ভবনের চারটি কক্ষের বিভিন্ন অংশের পয়েস্তা খসে পড়েছে। ভবনের দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত চিহ্ন স্পষ্ট আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট এতটাই প্রকট যে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকরা কার্যকরভাবে পাঠদান করতে যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্থাপিত পানির নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে বিশুদ্ধ পানি পেতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের শৌচাগারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ জন, প্রথম শ্রেণিতে ২৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২২ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৯ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৬ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাত্র চারজন শিক্ষিকা। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দপ্তরি নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা রানী ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বাইজিদ হোসেন জানায়, বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে মাঝেমধ্যেই পলেস্তারা ও রং খসে পড়ে। এতে তারা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করে। স্থানীয় বাসিন্দা দিলু মিয়া বলেন, আমার দুইজন নাতি এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির অবস্থা এমন। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। আমরা চাই আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মোট জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে নয়াচর কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে জায়গার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়ের জন্য আধুনিক ভবন ও পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাম্মী আক্তার বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এখানকার শিশুরা পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক কষ্টে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ছবির আহমেদ বলেন, এলাকার শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়টির জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাজা মাইনউদ্দীন বলেন, বর্তমানে নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের বরাদ্দ সীমিত। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ কার্যক্রমও স্থবির রয়েছে। তবে নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের ভবন সংক্রান্ত বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
