সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায়ে বিএনপির বিকল্প নেই
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে যুগ যুগ ধরে চলে আসা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন প্রতিবছর বসে এ মেলা। একসময় জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার প্রথা প্রচলিত থাকায় মেলাটি 'বউ মেলা' নামেও পরিচিত ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিকতার প্রভাবে সেই প্রথা এখন আর প্রচলিত নেই। বর্তমানে মেলাটি পরিণত হয়েছে আত্মীয়স্বজনের মিলন, আনন্দ ভাগাভাগি ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজনে। শুক্রবার বীরগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সাঁওতাল তরুণ-তরুণীরা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে নানা সাজে মেলায় আসতে থাকেন। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলেও মূল আয়োজন জমে বিকেলের পর থেকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে উৎসবের আমেজ। মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। মেলার নিরাপত্তায় বীরগঞ্জ থানা-পুলিশের নেতৃত্বে আনসার ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। মিলনমেলার আয়োজক কমিটি আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি যোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর -১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রতিনিধি বীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও বীরগঞ্জ পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ আমিরুল বাহার। তিনি বলেন- বিএনপি সরকার ক্ষমতা আছেই বলে সারা বাংলাদেশে কোন পূজা মন্ডপে কোন প্রকার অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা ও নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন এবং বীরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেতা শীতল মার্ডী।
বক্তারা বলেন, কেউ মনে করেন, এ মেলার বয়স ২০০ বছরের বেশি, আবার কেউ বলেন, এটি বহুদিনের ঐতিহ্য। তবে ঠিক কবে মেলার শুরু হয়েছিল, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না। এক সময় জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার প্রথা থাকায় মেলাটি 'বউ মেলা' নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই প্রথা আর নেই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা এখন শিক্ষিত হচ্ছেন, বড় হচ্ছেন ও সামাজিকভাবে বিয়ে করছেন।
