সাগর বাঁচাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এএইচ সেলিম উল্লাহ, কক্সবাজার

কারও শরীরজুড়ে প্লাস্টিকের বোতল, মগ ও ছোট বালতি। কারও গায়ে প্লাস্টিকের থালা, আবার কেউ সেজেছেন বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক বর্জ্যে। আর এভাবেই বর্জ্য গায়ে জড়িয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছেন ১২ স্বেচ্ছাসেবী যুবক। তাঁদের ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি ঘিরে পর্যটকদের মাঝেও তৈরি হয় কৌতুহল। পর্যটকদের কেউ কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার মুঠোফোনে ধারণ করছেন ভিডিও। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই আয়োজনের আড়ালে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে সাগরদূষণ রোধের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। গতকাল বুধবার সকাল আটটার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা মিলে আজব এই দৃশ্যের। সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য দিয়ে 'বর্জ্যমানব' সেজে পর্যটকদের প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতন করেন এই স্বেচ্ছাসেবীরা। সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিক ও পরিবেশদূষণ বিরোধী একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ১২ জন 'বর্জ্যমানব' অংশ নিয়ে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পর্যটকদের সচেতন করার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা পর্যটকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ। সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, গত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।

এখনও এই শহরে লাখো পর্যটক অবস্থান করছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সাগর দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে। শোভাযাত্রায় থাকা ১২ জন 'বর্জ্যমানব' পর্যটকদের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছেন বলেও মনে করছেন তিনি।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সৈকতে বেড়াতে আসা অনেকেই বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। সৈকতে অসংখ্য ডাস্টবিন রাখা হলেও অনেকেই সেগুলো ব্যবহার করেন না। তার মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই ১২ জন নারী-পুরুষকে 'বর্জ্যমানব' সাজানো হয়েছে। এর আগে গত ১২ অক্টোবর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বর্জ্য দিয়ে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। সেটিও নির্মাণ করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। প্রতিদিন শত শত মানুষ সৈকতের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্যটি দেখতে ভিড় করেন।