দুর্গাপুরে বিনামূল্য সেলাই শিখছেন ৩০০ নারী
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নিজে সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ সেই সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই গত ১০ বছর ধরে বিনা মূল্যে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন জিন্নাত রেহানা বিউটি। সেখানে প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী নারীরা রয়েছেন। তাঁর হাতের সুঁই-সুতার কাজে বদলে গেছে অসংখ্য নারীর জীবন। কেউ শিখেছেন পোশাক তৈরি, কেউবা নকশিকাঁথা সেলাই। এসব কাজ শিখে অনেক নারী নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের জন্য কাজ করে যাওয়া এমন সফলতার কথা তিনি অকপটে বলছিলেন দুর্গাপুর সাংবাদিক ফোরাম এর গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে।
জিন্নাত রেহানা বিউটি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়ার মেয়ে। বর্তমানে দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সেলাইয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত জিন্নাত রেহানা। নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এক দশক আগে বিনা মূল্যে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তার লক্ষ্য— নারীরা যেন অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেরাই কাজ শিখে আয় করতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় ভূমিকা রাখতে পারেন। সেলাই কাজের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ১২ টার দিকে তিনি বিরিশিরি হতে চৈতাটি রাস্তা পর্যন্ত ২শ তাল বীজ রোপন করেছেন। নিজ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ নারীকে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ জন নারীকে শিখিয়েছেন হাতের সুঁই-সুতার সূক্ষ্ম কাজ। নকশিকাঁথা সেলাইয়েও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন অসংখ্য নারীকে। তাঁর এই উদ্যোগে নারীরা ঘরে বসেই কাজ শেখার এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পেয়েছেন। জিন্নাত রেহানা বিউটি বিভিন্ন ধরনের পোশাকে নকশার কাজ করেন। পাঞ্জাবি, কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, ব্লাউজ, শাড়ি, গাউন ও কুটিসহ নানা পোশাকে হাতের কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন নিজস্ব সৃজনশীলতা।
