মেরামত হয়নি ভাঙা সেতু দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রবিউল আলম লিটন, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলকুমার নদের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে মধ্যে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন থেকে সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে চার গ্রামের মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ফুলকুমার নদের ওপর ১৯৯০-৯১ অর্থ বছরে প্রায় ৩৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও আড়াই মিটার প্রস্থের একটি সরু সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় তিন বছর আগে সেতুটির মাঝখানে ভেঙে বড় এক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুই পাশের রেলিংও ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে একসময় 'সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও চলাচল নিষেধ' লিখে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দিলেও এখন আর সেই সাইনবোর্ডেরও অস্তিত্ব নেই। জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও যানবাহন পারাপার না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে ওই সেতু দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন। উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের মানিককাজি, পূর্ব ও পশ্চিম ভোটহাট এবং জয়মনিরহাট ইউনিয়নের বাউসমারি ও শিংঝাড় গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এই সেতুর ওপর দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ' শিক্ষার্থী প্রতিদিন চলাচল করে। সেতুটি ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। মানিককাজি ঘাটপার বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আবুল হাসান বলেন, সেতুটিতে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি বাজারে ঢুকতে পারছে না। তাই উপজেলা সদর থেকে দোকানের প্রয়োজনীয় মালপত্র কিনতে হচ্ছে। তাতে পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, এই এলাকার মানুষের রোগ ব্যাধি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স দরকার পরে কিন্তু এই রাস্তা দিয়ে এম্বুলেন্স আসতে চায়না। রোগী নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের বিপদে পড়তে হয়। সেতুটি দ্রুত মেরামত নয়তো ওই স্থানে নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

অটোচালক ময়েনউদ্দিন বলেন, এই ব্রীজের উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইছাহাক আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর অনেক আগেই জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে যেতে পারে। উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, আমি নতুন এসেছি। চাহিদা পত্রে সেতুটির প্রস্তাব এক নম্বরে আছে। এরইমধ্যে সেতুটির প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।