ভাণ্ডারিয়ায় এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ। অন্যদিকে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। তিনটি শাখা মিলিয়ে উপজেলার মোট পাসের হার ৩৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সাধারণ এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি শাখায় মোট ১ হাজার ৫৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৫৭৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৯৮৪ জন। তিন শাখায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন। সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার পাঁচটি কলেজ থেকে ১ হাজার ৫১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৮২ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। কলেজগুলোর মধ্যে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ থেকে ৩০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে আমানউল্লাহ মহাবিদ্যালয়ে ২৪২ জনের মধ্যে ১৩৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ছয়জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজে ৪১৬ জনের মধ্যে ১৩৯ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে দু'জন। সিংখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৪ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং মানিক মিয়া কলেজে ৫৮ জনের মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার ১০টি মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষায় ৩৩৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৫ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে দু'জন। আলিম পরীক্ষায় ভাণ্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসায় ৮২ জনের মধ্যে ২৫ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আলগাজ্জালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ১০১ জনের মধ্যে ২৩ জন পাস করেছে, পাসের হার ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পৈকখালী মোমেনিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনে চারজন পাস করেছে, পাসের হার ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তেলিখালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে ১০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ। মাফছার উলউলুম আলিম মাদ্রাসায় ৩৬ জনের মধ্যে সাতজন, পাসের হার ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দক্ষিণ শিয়ালকাঠী আলিম মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে দু'জন, পাসের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
চড়াইল আব্দুল আলী আলিম মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে দু'জন পাস করেছে, পাসের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। উত্তর ধাওয়া আলহাজ কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৯ জনের মধ্যে একজন, পাসের হার ১১দশমিক ১১ শতাংশ। নয়াখালী মাটিভাংগা আলিম মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। পাসের হার ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানে ১৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৮ জন। পাসের হার ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সাবিহা খালেক টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ১৫৪ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং শিয়ালকাঠী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ১৭ জনের মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছে। এ শাখায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
