কালিয়াকৈরে ত্রিমোখী সংঘর্ষ ভাঙচুর বিজিবিসহ ৩০ জন আহত

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবীতে সোমবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ ও যানবাহন ভাংচুর করে পোশাক শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে বিজিবি, পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা। এ ঘটনায় বিজিবি ও সাংবাদিকসহ কর্মপক্ষে ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে আওয়ামী দুসরা মিশে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী, শ্রমিক, পুলিশ ও যাত্রী সূত্রে জানা গেছে, নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবীতে শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের কারণে গত রবিবার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। তারপরও শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সোমবার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন শুরু করে। তারা সকাল ৮টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, আনসার একাডেমি ৩নং গেইট, হরিণহাটি, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। তাদের অবরোধের কারণে ওই মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সফিপুর আনসার একাডেমি ৩নং গেইট এলাকায় বিদ্যুতের খুটি আড়াআড়ি ফেলে মহাসড়কটি পুরোপুরো বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি, কালিয়াকৈর থানা ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই বিদ্যুতের খুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে শ্রমিকরা। খবর পেয়ে বিজিবি, কালিয়াকৈর থানা ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

এসময় তাদের সঙ্গে বিক্ষুব্দ শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে লাঠিচার্জ ও টিয়াশেল নিক্ষেপে মহাসড়ক থেকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। কিন্তু বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা আবারও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তাদের নিক্ষেপ করা ইটপাটেলের আঘাতে করিব নামে এক বিজিবি সদস্য, সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল মান্নানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের চেষ্টায় দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ধীরে ধীরে মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা জানিয়েছেন, শুধু মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করলেই হবে না। আমাদের নূন্যতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এদিকে শ্রমিকদের নামে তৃতীয় পক্ষ বা শক্তি যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা কয়েকদিন ধরে রাস্তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এমন অভিযোগে গত রবিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

অপর দিকে উত্তেজিত শ্রমিক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাজপথে নামেন উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও সংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা। "শিল্প বাঁচলে বাচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" এমন নানা শ্লোগানে বিএনপির নেতাকর্মীরার লাঠিসোটা নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন। পরে নেতাকর্মীরা সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের উত্তেজিত শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বেশকিছু বিএনপির নেতাকর্মী ও পোশাক শ্রমিক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শ্রমিক আন্দোলনের নামে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের অতীত সরকারের দুসররা রাস্তা অবরোধ রেখে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক পারভেজ আহম্মেদ বলেন, ইতিমধ্যে মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করেছে সরকার। খুব তাড়াতাড়ি শ্রমিকদের নূন্যতম বেতন নির্ধারণ করা হবে।