মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় প্রাণ গেল বৃষ্টির স্বামী আটক
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

মাদক সেবনে বাঁধা ও পারিবারিক কলহের জেরে লামিয়া বৃষ্টি (২১) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করেছে ডামুড্যা থানা পুলিশ। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটায় নিহতের বাবা আল আমিন মাদবর বাদী হয়ে রবিউল ছৈয়ালকে আসামি করে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ডামুড্যা থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৬ বছর আগে উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের আলী আজগর ছৈয়ালের ছেলে রবিউল ছৈয়ালের (২৪) সঙ্গে একই এলকার সুতলকাঠি গ্রামের আল আমিন মদবরের মেয়ে লামিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। এ নিয়ে লামিয়ার সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এক সপ্তাহ আগে মাদক সেবন ও বিক্রি বন্ধ না করলে রবিউলকে ডিভোর্স দেয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায় লামিয়া। গত সোমবার দুই পরিবার ও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সালিশরা চলে যাওয়ার পর লামিয়ার সাথে ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয় রবিউলের। একপর্যায়ে লামিয়াকে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে যায় রবিউল। সেখানে দুই জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্র্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়ার গলায় ও শরীরে আঘাত করে পালিয়ে যায় স্বামী রবিউল। পরে নিহত লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাকে খুঁজতে গিয়ে ডোবায় লামিয়াকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত স্বামী রবিউলকে আটক করে ডামুড্যা থানা পুলিশ। নিহতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জরিত ছিলো। এ নিয়ে কথা বললে প্রায়ই আমার মেয়েকে মারধর করতো। গত সপ্তায় রবিউলকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে চলে আসে। গত সোমাবার স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে দুইজনের ঝগড়া মিমাংসা করে চলে আসার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার মেয়েকে গলা কেটে রবিউল পালিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মাদক সেবন ও পারিবারিক কলহের কারনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর পরই মোবাইল ট্রাকিং করে আমরা অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রবিউলকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
