চসিকের ৫৭ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের উদ্যোগ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

নগরীর দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৫৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা Direct Relief-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পক্ষ থেকে চসিকের দাতব্য চিকিৎসালয় ও আরবান হেলথ ক্লিনিকগুলোর জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব ওষুধ হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বর্তমানে ২০টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ৩২টি আরবান হেলথ ক্লিনিক এবং মাতৃসদন ও হাসপাতালসহ মোট ৫৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। Direct Relief-এর সহযোগিতায় পাওয়া ওষুধগুলো এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। এর ফলে নগরীর দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, ওষুধগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত উন্নতমানের ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজন অনুসারে এসব ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি ভালো সুযোগ। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে মানসম্মত ওষুধ পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

প্রশাসক চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা Direct Relief কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশেষ করে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হাসপাতালটির ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি হাসপাতালের উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমীন বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ ওষুধ প্রদান করা হয়েছে, এটি প্রাথমিক চালান। সামনে আরও বড় চালানে ওষুধ আসছে। পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান এবং হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম তানভীর ও মো. আবুল হাশেম, ডোনার সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. জাবেদ আবছার চৌধুরী, হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মহিউদ্দিন, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, হাসপাতালের আজীবন সদস্য বেগম ফাতেমা বাদশাসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।