কুমারখালীতে কলেজের মাঠে পশুহাট
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

দুপুর একটায় কলেজের কক্ষ গুলোর দরজায় ঝুলছে তালা। সামনে নেই পতাকাও। আর কলেজের ভবন ঘেঁষে পুতা রয়েছে অসংখ্য বাঁশের খুঁটি। তাতে বাঁধা রয়েছে ছোট-বড় গরু-ছাগল। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন ক্রেতা-বিক্রেতা।
চলছে বেঁচাকেনাও। মঙ্গলবার সরেজমিন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা ও কার্যক্রম চলার কথা।
কলেজটির অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, প্রতি রোববার পেঁয়াজ এবং মঙ্গলবার পশুর হাট বসে। তবে রোববারের বদলে শনিবার কলেজ খোলা থাকে। আর মঙ্গলবার একটা পর্যন্ত কলেজ খোলা থাকে। একটার পরে চলে পশুহাট।' তার ভাষ্য, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজ চলার কথা। কিন্তু হাটের জন্য হচ্ছেনা। আপনারা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতি রোববার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয় মাঠে বসে সপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট এবং প্রতি মঙ্গলবার বসে পশুর হাট। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চললেও এই দুইদিন কলেজটির সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ৪৮ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের বিপরীতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অন্তত ৩০ জন। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত কুরবানির ঈদ উপলক্ষে তিন মাসের অস্থায়ী পশুহাটের অনুমোদন দেন প্রশাসন। গত ৩ আগস্ট হাটের মেয়াদ শেষ হলেও কলেজ মাঠে চলছে পশুহাট। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম। কলেজ মাঠে বাঁশ-খুঁটি থাকায় স্থানীয় যুবসমাজ বঞ্চিত হচ্ছেন খেলাধুলা থেকেও।
শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজের ভবন ঘেঁষে হাটের বাঁশ-খুঁটি। হাটের দিন পাঠদান হয় না ঠিকভাবে। অন্যান্য কলেজে মতো এখানে মানসম্মত পরিবেশ নেই। দ্রুত কলেজ থেকে হাট তুলে দেওয়ার দাবি তাদের। চৌরঙ্গী পশুহাটের সাধারণ সম্পাদক আলম বিশ্বাস বলেন, একটা বাজলে এমনিতেই আর কলেজ চলেনা।
হাটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। হাটের জন্য কলেজের পাশেই জমিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই হাটটি কলেজমাঠ থেকে সরানো হবে। বিকাল চারটার আগেই কলেজ বন্ধ করার কোনো সরকারি নিয়ম নেই। এটি গুরুতর অপরাধ বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক। তিনি বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে কিংবা সরেজমিন গিয়ে এমন অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাইসুল ইসলাম বলেন, সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
