পরিকল্পিত উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে ফরিদপুর শহর
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুর প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে শুরু করেছে ফরিদপুর পৌরসভায়। সড়ক প্রশস্তকরণ, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। প্রায় ২২ কোটি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ চলছে। পাশাপাশি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স ফি ব্যাংকের মাধ্যমে এবং ট্রেড লাইসেন্সের অর্থ অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগে পৌরসভার নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৩ টাকা ব্যয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিআইবি বটতলা হয়ে তেঁতুলতলা পর্যন্ত, ফরিদ শাহ রোড থেকে পৌরসভা পর্যন্ত এবং মাতৃমঙ্গল থেকে সহকারী পুলিশ সুপারের বাংলো পর্যন্ত সড়ক রয়েছে। এসব সড়কে কার্পেটিংয়ের পাশাপাশি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে।
এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ৮৮ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা ব্যয়ে চৌরঙ্গী মসজিদ থেকে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত ২৪৩ মিটার কার্পেটিং সড়ক, বিল মামুদপুর নতুনডাঙ্গী থেকে সোনা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫ মিটার এইচবিবি সড়ক এবং মণ্ডলবাড়ি সড়ক লিংক রোডে ২০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে ৪৭২ মিটার শুকপাক সড়ক ইউনিব্লক এবং তোতার মোড় থেকে মোসলেম খান ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মিটার ঢালাই সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান। পৌরসভার এসব উন্নয়নকাজের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স ফি সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে এবং ট্রেড লাইসেন্সের অর্থ অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহমেদ বলেন, নতুন প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। লাইসেন্স ফি ব্যাংকের মাধ্যমে এবং ট্রেড লাইসেন্সের অর্থ অনলাইনে জমা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের সুযোগ কমবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন সড়কের সরু অংশ, খানাখন্দ ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সড়ক প্রশস্তকরণ, সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হলে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা। রিকশাচালক শরাফত আলী, পথচারী ইব্রাহিম মোল্লা ও আবির হোসেন বলেন, সড়কগুলো প্রশস্ত ও সংস্কার করা হলে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। নতুন ড্রেন নির্মিত হলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমার সমস্যাও কমবে। পাশাপাশি ফুটপাত নির্মিত হলে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে। পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে আগের তুলনায় বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। এসব কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পৌরবাসী উপকৃত হবেন। শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ঢাকা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আকাশ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে পৌর প্রশাসক যেসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে উন্নয়নকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরি। এদিকে জেলা পুলিশ হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রশস্তকরণের সময় পুরোনো গাছ অক্ষত রাখায় পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ ও গাছপালা সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়াও ইতিবাচক। ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পৌরসভার প্রকৌশলীরা নিয়মিত তদারকি করছেন। তিনি নিজেও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে, যানবাহনের চাপ ও জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের ফলে নাগরিকদের চলাচলে স্বস্তি আসবে। দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করে যাবেন। এ জন্য তিনি পৌরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
