বিএনপি কৃষির উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়

বললেন কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকেই কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণে নানা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিলো।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ, বস্তায় আদা চাষ ও আম বাগান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে কৃষি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কৃষক ভালো থাকলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তাই কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিতে নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সংকটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট ছিলনা, সারের সংকট নাই, আগামী দিনেও স্যারের সংকট ০.১% ও সারের সংকটের সম্ভাবনা নেই। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। চলতি মাসে আরও বেশি পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতেও সারের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন যাতে কোনোভাবেই ব্যহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কৃষকরা যেন সময়মতো সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী প্রথমে হোসেনডাঙ্গা এলাকার একটি গ্রীষ্মকালীন টমেটোর ক্ষেত ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি টমেটো চাষের পদ্ধতি, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং কৃষকদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে একই এলাকার আমবাগান ও বস্তায় আদা চাষের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসব ফসলের উৎপাদন পদ্ধতি, সম্ভাবনা এবং কৃষকদের আগ্রহের বিষয়েও তিনি অবগত হন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও কৃষি উৎপাদনসংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রসার এবং কৃষিতে বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।