কিশোরগঞ্জে দুই তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে পৃথক তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টানা ৫ ঘণ্টাব্যাপী রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জেলার বাজিতপুর ও ভৈরব। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টর্চলাইট জ্বালিয়ে বাজিতপুর বাজারের এমপি মার্কেটের সামনে এবং একই সময়ে ভৈরবে পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ড এলাকায় দুই পক্ষের দফায় দফায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যায় বাজিতপুর উপজেলা সদরের এমপি মার্কেটের সামনে একটি মুঠোফোনের দোকানের ভেতর দরিঘাগটিয়া এলাকার কালাম ও কৈলাগ এলাকার জিদানের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা সদরে এসে মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যাক্তি আহত হন। এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্স থাকলেও বিভিন্ন দিক থেকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে ভৈরবে ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে টানা ৫ ঘন্টা দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত রাহাদ নামের যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মীরবাড়ির বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে মাওলানা শাহরিয়ার তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে 'আমেরিকা প্রবাসী ইকবাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় স্থানীয় লোকজনের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।' উল্লেখ করে একটি লেখা ভিডিওসহ ফেসবুকে পোস্ট করেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আমজাদ আলীর বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়ার সঙ্গে শাহরিয়ারের তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ ও ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানসহ এসআরবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। যারা আইনশৃংখলা অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি মাহবুবুর রহমান।