নতুন রেলপথে দিনাজপুর-ঢাকা দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে রেল ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও গতি আসবে। রেলপথের দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমলে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াতে সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের আশা, তখন প্রায় পাঁচ ঘণ্টায় দিনাজপুর পৌঁছানো সম্ভব হবে। দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলওয়ে বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাসানুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১৩ অক্টোবর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত লোকোমোটিভ রেল কারখানা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ওই বৈঠকে মন্ত্রী সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনাজপুর-ঢাকা রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শেখ হাসানুজ্জামান মন্ত্রীর বক্তব্যের বরাত দিয়ে জানান, দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে এসব লোকোমোটিভ কেনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, লোকোমোটিভগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে। নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দ্রুত এসব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকে সড়কপথে যমুনা সেতু পার হয়ে হাটিকুমরুল, এলেঙ্গা কিংবা বগুড়া শহরের সরু সড়কে যানজটে পড়তে হয়। অন্যদিকে ট্রেনযাত্রীদের শান্তাহার-ঈশ্বরদী হয়ে ঘুরপথে ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি ডুয়েলগেজ রেলওয়ে কর্ডলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ শেষ হলে ট্রেন চলাচলের দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে। এতে সান্তাহার ও ঈশ্বরদী হয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও এগিয়েছে।

১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের এ প্রকল্পের ৯৫ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনের সুবিধা, নয়টি ফ্লাইওভার ও ২২টি ওভারপাস থাকছে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল অংশের কাজ ৭৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। হাটিকুমরুল আন্তর্জাতিক ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার যানবাহন সিগন্যাল ছাড়াই দ্রুত ঢাকা কিংবা নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দিনাজপুর-ঢাকা রেল যোগাযোগের উন্নয়নের পাশাপাশি শহরের ভেতরে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং শহরকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে শিগগিরই কাজ শুরু হবে। দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের সংযোগ সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করার কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পণ্য এবং দিনাজপুরের বিখ্যাত কাটারিভোগ চাল, লিচু ও আলু দ্রুতগামী ট্রেনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুয়েলগেজ রেলপথ ও ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণকে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করেন তিনি। দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ডুয়েলগেজ রেলপথ ও ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণ জরুরি বলেও উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে রেলপথ ও মহাসড়ক নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।