ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ

রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ

অবৈধভাবে কুষ্টিয়া পৌরসভার রাস্তা দখল করে পাঁচতলা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই জমি কিনে রাস্তার ওপর বাড়ি ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকার ১৩৯/১৯ গীর্জানাথ মজুমদার সড়কের মাঝামাঝি জায়গায় রাস্তার ওপর বাড়ি নির্মাণের ফলে ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে নির্মিত বাড়িটির জন্য রাস্তা পাকাকরণের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র বরাবর ৩১ স্থানীয় বাসিন্দার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিযুক্তকে দুইবার নোটিশ দেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র। নোটিশ পাওয়ার পরও সরকারি রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা সেই ভবন ও সীমানা প্রাচীর সরিয়ে নেওয়া হয়নি। যদিও দুই দফার নোটিশে সাত দিনের মধ্যে রাস্তার জায়গা ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পৌরসভার নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাড়ির মালিক অভিযোগকারীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকার ১৩৯/১৯ গীর্জানাথ মজুমদার সড়কের মাঝামাঝি জায়গায় রাস্তার ওপর পৌরসভার অর্ডিন্যান্স ২০০৯ সালের ৩৫ ও ৩৬ ধারা লঙ্ঘনের মাধ্যমে রাস্তার জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ইমারত নির্মাণ করেছেন একজন। এটি পৌর আইনের পরিপন্থি। ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর এবং ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর দখলকারীকে দুটি নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ দিনের মধ্যে রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ অবকাঠামো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন পৌর মেয়র। নোটিশ পাওয়ার পরও অবকাঠামো সরিয়ে নেননি অভিযুক্ত দখলদার। কিছুদিন আগেও দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছিল, অবৈধভাবে রাস্তার জায়গায় নির্মিত বাড়ি ও সীমানা প্রাচীর নিজ খরচে ভেঙে নিতে হবে। অন্যথায় নির্মাণকৃত সীমানা প্রাচীর ও ইমারতের বর্ধিত অংশ পৌরসভার লোকবল দ্বারা ভেঙে দেওয়া হবে। ভাঙার সমুদয় খরচ দখলকারীর নিকট থেকে আদায় করবে পৌরসভা। অজ্ঞাত কারণে নোটিশ দেওয়ার দুই বছর পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বাড়ির মালিকও কারও নির্দেশ ও অনুরোধে কর্ণপাত করেননি। এতে এ সড়কের ড্রেন ও রাস্তা পাকাকরণের কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পের কাজ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেক কমিউনিকেশন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অডিট অফিসার সোহেল পারভেজ বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা পাকাকরণ প্রকল্পের কাজ চলছিল। গীর্জানাথ মজুমদার সড়কের সেই কাজ গত ২০ দিন আগে আমরা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। কারণ পৌরসভার রাস্তার জায়গায় ভবন ও সীমানা প্রাচীর পড়েছে। সেটি ভেঙে বা রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করে না দিলে আমরা কাজ শুরু করতে পারছি না। আমরা তো দখলকারীদের সঙ্গে লড়াই করব না। পৌরসভাকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। গীর্জানাথ মজুমদার সড়কের দৈর্ঘ্য ৫৪০ মিটারের মধ্যে ২২০ মিটার ড্রেন ও রাস্তা পাকাকরণের কাজ বাকি আছে। রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করে দিলে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, মেয়র মহোদয় প্যানেল মেয়র, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আমাকে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সে সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। রাস্তাটি এখনও দখলমুক্ত হয়নি। দখলমুক্ত করার জন্য বাড়ির মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত হলে নির্মাণকাজ আবারও শুরু হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত