বাঙালির ভাষা আন্দোলন ঐতিহাসিক পটভূমি

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. এ. এইচ. এম মাহবুবুর রহমান, চেয়ারম্যান, সমাজকর্ম বিভাগ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ নামক ভূখ-ের অস্তিত্ব স্মরণাতীতকালের। বিশেষজ্ঞের ধারণা, একদা যে অঞ্চলের পরিচিতি ছিল পুন্ড্র বরেন্দ্র নামে, বঙ্গ-সমতট-হরিকেল-চন্দ্রদ্বীপ নামে। কালের বিবর্তনে আজকের বাংলাদেশের জন্ম সেই ভূখ- থেকে। ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের মতে বঙ্গদেশ নামের যে গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় বাংলাদেশের অস্তিত্ব, সেই বংগদেশের (বাংলাদেশের) বংগ শব্দটি প্রাচীনতার সাক্ষ্য বহন করে। ‘বং’ শব্দ থেকেই ‘বংগ’ শব্দের উৎপত্তি এবং ‘বং’ একটি চৈনিক শব্দ।

চীনা ভাষায় ‘বং’ শব্দের অর্থ জলাশয় অর্থাৎ নদীমাতৃক এলাকা। পুরাকালে সুন্দরবনের উত্তর ও পূর্ব ভূখ-টি ছিল এক বিস্তৃত বনাঞ্চল। সেই বন কেটে মানুষ বসতি করেছে ও গাঁ বসিয়েছে। আমাদের মনে হয় এ প্রাগ্রসর ‘বন’ই বঙ্গের আদিরূপ ও বৃদ্ধা প্রপিতাম।’ বাংলাদেশের ইতিহাস উপমহাদেশের পূর্ব এলাকার সামগ্রিক ইতিহাসের অংশ বিশেষ। এ ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। এ এলাকা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছে। মধ্য ভারতের মগধ থেকে শুরু করে পূর্ব সীমানা কামরূপ পর্যন্ত নানা সাম্রাজ্য, দেশ এবং নানা স্বাধীন ভূখ-ের ইতিহাসে বাংলাদেশের পরিচয় পাওয়া য়ায়।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আরম্ভ করে রাজা শশাঙ্কের (খ্রিষ্ট্রীয় সপ্তম শতাব্দী) সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ নানা জনপদে বিভক্ত ছিল। এসব জনপদের মধ্যে ‘বঙ্গ’, ’গৌড়’, রাঢ়’, ’পুন্ড্র’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসব স্থানের নাম গোষ্ঠীজ্ঞাপক হিসেবে ইতিহাসে পরিচিত ছিল। তার প্রমাণ প্রাচীনতম সংস্কৃত সাহিত্যের নানা উপাদানে পাওয়া যায়। সংস্কৃত সাহিত্যে ‘বঙ্গাঃ’, ‘গৌড়াঃ’, ‘রাঢ়া’, ‘পুন্ড্র’, প্রভৃতি গোষ্ঠীবাচক বহুবচন শব্দ বহু ক্ষেত্রে দেশ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। [...] ‘বঙ্গাঃ’, অর্থে ‘বঙ্গজনাঃ’ ‘গৌড়াঃ’, অর্থে ‘গৌড়জনা’ ইত্যাদি বোঝায় [...]। যে অঞ্চলে ‘বঙ্গ’ গোষ্ঠীর মানুষ বাস করত তা ‘বঙ্গ’ ‘বাংলা’, ‘বাঙলা’ ‘বাঙ্গলা’ প্রভৃতি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। মূলত বঙ্গ শব্দের উদ্ভব এভাবেই।

আবুল ফজল তার ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে বাংলা শব্দের যে উৎপত্তি নির্ণয় করেছেন, তা নানা কারণে সঠিক হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। তার মতে ‘বং’ শব্দের সঙ্গে তম্ভব ‘আল্’ (সংস্কৃত ‘আলি’ (অল+ইন্,ক); এই ‘আলি’ শব্দ স্বরতাত্ত্বিক নীতিতে ‘ই’-স্বরের অপিনিহিত অবস্থায় ‘আইল’ রূপে পূর্ববঙ্গে এখনও বিদ্যমান) শব্দ হয়ে ‘বংগাল’ শব্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা ফারসি ঢঙ্গে দেশ বুঝাতে এ ‘বংগাল’ শব্দ ‘বন্গালহ্’ হয়ে এখন ‘বাংলা’ রূপে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘আল’ <সংস্কৃত ‘আলি’ (জমিতে জল ধরে রাখার বাঁধ) দিয়ে বাঁধা ‘বং’-গোষ্ঠীর বাসভূমি। প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে, ‘বং’ গোষ্ঠীভুক্ত মানুষের বাসভূমি বাংলাদেশ, যা বর্তমান ভাগীরথী (প্রাচীন গঙ্গার বঙ্গবাহিনী ধারা) নদীর পূর্বতীর থেকে আরম্ভ করে আসামের পশ্চিমাঞ্চল পর্যস্ত বিস্তৃত ছিল।৬ আবুল ফজলকৃত ‘বাংলা’ শব্দের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে নিহাররঞ্জন রায়ের মতামত হলো, ‘আবুল ফজলের ব্যাখ্যার অর্থ বঙ্গদেশ আল বা আলিবহুল, অর্থাৎ যে বঙ্গদেশের উপরিভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আল সেই দেশই বাঙ্গালা বা বাংলাদেশ।’ বঙ্গদেশের এ আলগুলোই আবুল ফজলের সবিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল; তার ব্যাখ্যায় তা স্পষ্ট হয়। ‘বাংলা’ শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের নানারূপ মতপার্থক্য পাওয়া যায়। যেমনÑ রমেশচন্দ্র মজুমদার আবুল ফজলের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করলেও নীহাররঞ্জন রায়ের মতামতকে অযৌক্তিক মনে করেননি। তার মতেÑ আমাদের এ দেশের নাম বঙ্গ দেশ বা বাংলাদেশ।

মুঘল আমলে এ বঙ্গদেশ ‘সুবা বাংলা’ নামে পরিচিত ছিল, যা এর আগে আবুল ফজল তার ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে বাংলা-বাঙ্গালা নামের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে আল শুধু শস্য ক্ষেত্রের আল নয়, আল ছোটবড় বাঁধও বটে। নদীমাতৃক বারিবহুল বঙ্গদেশে বৃষ্টি, বন্যা এবং জোয়ারের স্রোত ঠেকানোর জন্য ছোটবড় বাঁধ বাঁধা ছিল কৃষি ও বাস্তুভূমির জন্য অনিবার্য। তবে যেসব ভূখ-ে বারিপাত কম হতো সেসব ভূমি সাধারণত ঊষর থাকত, ফলে সেখানে বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য ছোট বড় বাঁধ দেওয়ার প্রয়োজন হতো। যেমনÑ বীরভূম অঞ্চল। প্রাচীন লিপিতেও এ ধরনের বাঁধের পুনঃপুনঃ উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমনÑ বিশ্বরূপসেনের মদনপাড়া এবং অন্যান্য অসংখ্য লিপির কথা প্রসঙ্গত স্মরণ করা যায়। উদাহরণ স্বরূপ রংপুর-বগুড়ার বীমের কৈবর্তরাজ ভিমের জাঙ্গাল বা ভীমের ডাইঙ্গ, বীরভূমের সিউড়ি অঞ্চলেরও দু-একটি বাঁধের উল্লেখ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের ভূমির সীমা উল্লেখিত হয়েছে, ‘উত্তরে হিমালয় এবং হিমালয়ধৃত নেপাল, সিকিম ও ভুটান রাজ্য। উত্তর-পূর্বদিকে ব্রহ্মপুত্র নদ উপত্যকা; উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্বারবঙ্গ পর্যন্ত ভাগীরথীর উত্তর সমান্তরালবর্তী সমভূমি, পূর্বদিকে গারো-খাসিয়া-জৈন্তিয়া-ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম শৈলশ্রেণি বহিয়া দক্ষিণ সমুদ্র পর্যন্ত; পশ্চিমে রাজমহল-সাঁওতাল পরগনা-ছোটনাগপুর-মানভূম-ধলভূম-কেওঞ্জর-ময়ুরভঞ্জের শৈলময় অরণ্যময় মালভূমি; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ প্রাকৃতিক সীমাবিধৃত সমতট-বঙ্গ-বঙ্গাল-হরিকেল প্রভৃতি বাঙালির কর্মকৃতীর উৎস এবং ধর্ম-কর্ম-নর্মভূমি। একদিকে সুউচ্চ পর্বত, দুই দিকে কঠিন শৈলভূমি, আর একদিকে বিস্তীর্ণ সমুদ্র; মাঝখানে সমভূমি সাম্য এটাই বাঙালির ভৌগোলিক ভাগ্য।’ এ ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে বাংলা কারও চাপিয়ে দেওয়া ভাষা নয়। এটি বাঙালির হাজার বছরের ভাষা-ঐতিহ্য।

বাংলাদেশের ভাষা বাংলা। বাংলা ভাষার মূল হচ্ছে ইন্দো-ইরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী। ভারতীয় আদি কথ্যভাষা প্রাকৃত থেকে উদ্ভব হয় অপভ্রংশ। বাংলা ভাষার বিকাশ হয় গৌড়ীয় অথবা মগধী অপভ্রংশ থেকে। এ ভাষার উদ্ভব হয় সপ্তম শতাব্দীতে। পাল রাজবংশ বাংলা ভাষার পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং ‘চর্যাপদ’ বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ। বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ঘটে ইলিয়াস শাহি ও হোসেন শাহির আমলে। এ সময় মুসলমান সাহিত্যিকরা ইসলামি ঐতিহ্য ও হিন্দুরা তাদের ঐতিহ্য নিয়ে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করেন মঈনুদ্দিনের ‘রসুল বিজয়’ সৈয়দ সুলতানের ‘নবী বংশ’ ও ‘শবেমেরাজ’ শাহ শহগীরের ‘ইউসুফ জুলেখা’ কৃত্তিবাসের ‘রামায়ণ’ মালাধর বসুর ‘শ্রী কৃষ্ণবিজয়’ চ-ীদাস ও বিদ্যাপতির ‘পদাবলী’ উল্লেখযোগ্য। মুসলিম শাসনামলে রাজকার্যের ভাষা ছিল ফারসি।

১৭৫৭ সালে পলাশীর পরাজয়ের পর বাঙালির শাসন ক্ষমতা ব্রিটিশ কোম্পানির কাছে পদানত হলে প্রথমে ফারসি পরে অফিস আদালতের ভাষা হয় ইংরেজি। ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী রানী ভিক্টোরিয়ার শাসন শুরু হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষায় পাঠদান শুরু হয়। ব্রিটিশ রাজত্বকালে ‘বাংলা প্রেসিডেন্সি’ প্রদেশ ছিল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত। ১৯০৫ সালে এ প্রদেশ লর্ড কার্জন ভেঙে দিলে (বঙ্গভঙ্গ) বাংলাদেশ ও আসাম নিয়ে গঠিত হয় ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম’ প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘বেঙ্গল প্রদেশ’। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে ‘বিহার-উড়িষ্যা’ নিয়ে একটি প্রদেশ ও আসাম আলাদা প্রদেশ হয় অন্যদিকে ‘বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গ’ নিয়ে গঠিত হয় ‘বাংলা প্রদেশ’। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে বাংলাদেশ হয় পাকিস্তানের ‘পূর্ব বঙ্গ’ প্রদেশ। এখানে উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য জিয়াউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছিলেন, দেশ বিভাগের পর ভারতের রাষ্ট্রভাষা যেহেতু হিন্দি হচ্ছে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হওয়া উচিত। জিয়াউদ্দিন আহমদের এ মন্তব্যের জবাবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত বাংলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমেরে নেতৃত্বে ‘পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হলে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে পূর্ববঙ্গের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান।’

১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট ভারত উপমহাদেশ ভাগ হয়ে গেলে ৬ মাস না যেতেই ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন। গণপরিষদে কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধিরেন্দ্রনাথ দত্ত এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। এ সংবাদ বাইরে ছড়িয়ে পড়লে ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ ছত্রলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে। ১১ মার্চ গণপরিষদে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রস্তাব পাস হলে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র বিক্ষোভ ও পিকেটিংয়ের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হন। ১৯ মার্চ ১৯৪৮ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (রেসকোর্স ময়দানে) পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এক সংবর্ধনা সভায় বলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র ভাষা।’ জিন্নাহর বক্তব্য শুনে জনসভায় উপস্থিত জনগণ হতভম্ব হয়ে পড়ে। বাঙালির ভাষা হবে বাংলাÑ এ দাবিতে বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে একছাত্র সমাবেশে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র ভাষা’ এ বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলে তরুণ ছাত্রনেতা পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান সভাস্থলেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। ফলে জিন্নাহ তার বক্তব্য শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করেন।

১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিন্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঢাকা সফরে এসে ঘোষণা করেন ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র ভাষা।’ উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে খাজা নাজিমউদ্দিন যখন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন ‘রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ’ কর্তৃক ১১ মার্চের বিক্ষোভের পর ছাত্রদের সঙ্গে খাজা নাজিমুদ্দীন বাংলা ভাষার প্রতি সমর্থন দিয়ে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু ১৯৫২ সালে তিনি তার সে প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হলে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিপরীত দিকে তখন অধিবেশন বসত) ছাত্ররা ধর্মঘটের ডাক দেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্র-জনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আমতলা থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে খ- খ- মিছিল নিয়ে অধিবেশনের দিকে যেতে থাকে। ছাত্র-জনতার মিছিল বর্তমান শহীদ মিনারের কাছে পৌঁছলে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে শহীদ হনÑ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউর। হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে লাল হয় ঢাকার রাজপথ। সেই থেকে শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে তৈরি হয় শহীদ মিনার। শহীদের রক্তমাখা রাজপথে খালি পায়ে হেঁটে ভোরের আলো ফোটার আগে শ্রদ্ধায় নত হয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পাঞ্জলি দেয় সারা বিশ্বের মানুষ। ১৯৯৯ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালির ভাষা আন্দোলন এখন সব ভাষার জন্য গর্বের আর অহংকারের।