ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভাষার খেলা, ভাষার সম্মোহন

ড. মো. শওকত হোসেন, অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, [email protected]
ভাষার খেলা, ভাষার সম্মোহন

প্রখ্যাত ছড়াকার রোকনুজ্জামান খান রচিত বাহান্ন লাইনের একটি ছড়া আছে, যার শেষের চার চরণ অধিকাংশ বাঙালিরই মুখস্থ রয়েছে। ছড়াটির নাম ‘হাট্টিমাটিম টিম’। এর প্রথম চার লাইন হচ্ছে : ‘টাট্টুকে আজ আনতে দিলাম বাজার থেকে শিম/মনের ভুলে আনলো কিনে মস্ত বড় একটা ডিম।’ এখানে ‘মনের ভুলে’ ‘শিম’-এর স্থানে চলে এসেছে ‘ডিম’। কিন্তু ভাষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দের বা বাক্যের রূপান্তর বা অন্যরকম অর্থ ব্যক্ত করার বিষয়টি কেবল মনের ভুলে বা বিস্মৃতি কারণেই সংঘটিত হয় না। অনেক সময় শোনার ভুল, পড়ার ভুলও এজন্য দায়ী হতে পারে। তবে ঠিকমতো শোনা, পড়া এবং মনে রাখা সত্ত্বেও কোনো কোনো বক্তার কিছু কিছু কথা কোনো কোনো শ্রোতা বা পাঠকের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে বোঝার বা বোধিত (underatood) হতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে শ্রোতা বা পাঠক যেমন ভুলভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন, তেমনি বক্তা বা লেখকও বিব্রতবোধ করতে পারেন, এমনকি বিপদেও পড়তে পারেন। সর্বোপরি একথা বললেও হয়তো বাড়িয়ে বলা হবে না যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ বাগ্বিত-া বা ঝগড়া-বিবাদের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এই ভাষাগত সমস্যা। এমনকি সম্প্রতিককালে একশ্রেণির দার্শনিক এমন দাবিও করেন যে, দার্শনিক সমস্যা বলতে আমরা যেসব সর্বজনীন মৌলিক সমস্যা বা বোধের বিষয়কে মনে করি, তা মূলত ভাষাগত সমস্যার নামান্তর। ভাষার সমস্যা সমাধান অর্থাৎ অর্থের সমস্যা দূর করার মধ্য দিয়েই সত্যিকার অর্থে দার্শনিক সমস্যাবলিকে মিটমাট করা চলে।

দার্শনিক সমস্যার কথা এখন থাক। এবার ব্যক্তি মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যার কিছু দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। যদি প্রশ্ন করা হয় : আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলি তাদের প্রত্যেকের প্রত্যেক কথাই কি আমরা সঠিকভাবে বুঝি? আবার আমরা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে অন্যকে বা অন্যদের যা বলি তাও কি কোনো বিশেষ ব্যক্তি অথবা অন্য সবাই সমানভাবে, অন্তত, যথার্থভাবে বুঝে থাকেন?

আচ্ছা, একটি পরিস্থিতির কথা ধরা যাক। মনে করুন আপনি হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে নিজেকে আবিষ্কার করলেন গভীর এক জঙ্গলের মধ্যে একা। আপনি অবাক হচ্ছেন, ভয় পাচ্ছেন। আপনি জনপদে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছেন। এমন সময় আপনি লক্ষ্য করলেন যে, আপনার অবস্থান থেকে কিছু দূরে চারদিকে বিভিন্ন হিংস্র জীবজন্তু ঘিরে আছে। কিন্তু আপনাকে কোনো এক ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। ঠিক এমন সময় আপনি জীবজন্তুদের রাজা বলে পরিচিত সিংহের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বাধ্য হলেন। কেননা বিস্ময়করভাবে আপনি দেখলেন যে, এক পাশে অবস্থান করা একটি মাত্র সিংহ যার কাছে অন্য হিংস্র প্রাণীরা পর্যন্ত আসতে ভয় পাচ্ছে। সে কথা বলছে এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনার জানা ভাষায়ই সে কথা বলছে। সিংহটি বলছে ‘আমি মানুষ পছন্দ করি’। আবার ইংরেজিতেও বলছে ওই একই কথা। আপনাকে উদ্দেশ করেই কথা বলছে। এ পর্যায়ে আপনি কী করবেন? নিশ্চিন্তে বনের নেতা সিংহের আটকে রাখা পথ দিয়ে অগ্রসর হবেন? যাওয়ার সময় সিংহটির সঙ্গে করমর্দন কিংবা কোলাকুলি করার কথাও কি ভাবছেন? আসল সমস্যা হচ্ছে ‘পছন্দ করা’ পদটি নিয়ে। পছন্দ করা (like) বলতে সিংহটি কী এটা বোঝাচ্ছে যে, মানুষের জন্য সে খুবই নিবেদিত, মানুষের উপকার করতে পারলে সে খুবই আনন্দ পায়! নাকি খাদ্য হিসেবে মানুষ তার খুবই প্রিয়, এই অর্থে মানুষ পছন্দ করে ওই সিংহটি?

এরকম একটি বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টেইন। তিনি ভাষার সমস্যা নিয়ে ভেবেছিলেন। ভেবেছিলেন মানুষের সঙ্গে মানুষের মনোভাব আদান-প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, মানসমাজের নানাবিধ সমস্যা এমনকি খোদ দার্শনিক সমস্যাও মূলত ভাষাগত সমস্যা থেকেই উৎপত্তি হয়ে থাকে। তিনি দেখালেন যে, ভাষায় আমরা যে শব্দগুলো (words), পদ (terms) ব্যবহার করি বা যেসব বাক্য আমরা বলি তার অর্থ সবসময়, সর্বোপরি স্থিতি এবং সব ব্যক্তির কাছে একরকমভাবে অর্থ প্রকাশ করে না। কোন একটি শব্দ বা পদ ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে বোধগম্য হতে পারে। কোনো বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে কোনো কোনো শব্দের বা পদের একেবারেই আলাদা ধরনের অর্থ থাকতে পারে। অন্য লোকজন বা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সেই শব্দ বা পদের অর্থ হয়তো সেরকম নাও থাকতে পারে।

ভিটগেনস্টেইনের মতে, ভাষার এই ব্যবহার অনেকটা খেলার মতো। খেলা বা game যেমন-বিভিন্ন ধরনের। এক এক খেলার নিয়মণ্ডনীতি একেক রকমের। তেমনি ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বক্তা এবং শ্রোতা এক ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এই খেলাকে তিনি ভাষা-খেলা (language game) বলেছেন। কোনো বিশেষ শব্দ বা পদ দিয়ে বক্তা কোন ধরনের খেলা খেলছেন তা না বোঝা গেলে ওই বক্তব্যের অর্থ বোঝা জটিল হয়ে যায়। বক্তা প্রকৃতপক্ষে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা অজানা থেকে যেতে পারে, এমনকি সম্পূর্ণ ভিন্ন বা বিপরীত কোনো অর্থও কেউ কেউ ধরে নিতে পারেন। কিছু বাস্তব পরিস্থিতি এবার বিবেচনা করা যাক। মনে করুন কোনো এক ডাক্তার (সার্জন) কোনো রোগীর দেহে একটি জটিল অপারেশন করার সময় এক পর্যায়ে কিছুটা উত্তেজনার সঙ্গে একটি বিশেষ উচ্চারণে অপারেশন থিয়েটারে তার টিমের এক নার্সকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘নার্স, ছুরি’ (nurse, scalpel)। এই দুটি শব্দ দিয়ে ওই ডাক্তার কী বোঝাতে চেয়েছেন তা আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছুটা ধারণা করতে পারি। ‘ছুরি’ শব্দ দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন এবং এই শব্দটি শুনে কী করতে হবে তা সঠিকভাবে ওই অপারেশন থিয়েটারের সংশ্লিষ্ট নার্সই ভালো জানেন। আবার ওই একই শব্দ অর্থাৎ ‘ছুরি’ ভিন্ন পরিস্থিতিতে অন্যরকম অর্থ বোঝাতে পারে। যেমন ধরুন ওই ডাক্তার বিকেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে রিকশায় করে কোথাও যাচ্ছেন পথে এক জায়গায় রিকশাটি জ্যামে আটকে গিয়েছে, ঠিক সেই সময় কয়েকজন যুবক তাদের রিকশার সামনে এসে ছুরি বের করেছেন এবং ডাক্তার কিছুটা উত্তেজনা নিয়েই তার স্ত্রীর উদ্দেশে বললেন ‘ছুরি’। বলার ধরনটি অনেকটা সেই নার্সকে উদ্দেশ করে বলার মতোই। এখন কথা হচ্ছে ওই নার্সকে ‘ছুরি’ বলায় নার্স যা বুঝেছিলেন, অনেকটা একই রকম উচ্চারণে একই ডাক্তার ভদ্রলোক তার স্ত্রীর উদ্দেশে ‘ছুরি’ শব্দটি বলায় কি সেই একই রকম অর্থ বোঝাবে? আবার ওই একই ডাক্তার ওই নার্সকে নিয়ে কোনো একটি পার্টিতে একই টেবিলে খেতে বসে নার্সের উদ্দেশে যদি ঠিক অপারেশন থিয়েটারে ‘ছুরি’ শব্দটি উচ্চারণের মতো করে বলেন : ‘নার্স, লবণ’ (nurse salt)-তখন লোকজন ওই কথাটিকে কীভাবে নেবে?

এভাবে ভাষা ব্যবহারের প্রসঙ্গ পরিস্থিতি এবং ব্যবহারকারী ব্যক্তি ও শ্রোতার তারতম্যের কারণে ভাষার অর্থ বোঝা যে কত সমস্যার সৃষ্টি করে তা ভিটগেনস্টেইন তার 'Philosophical Investigation' নামক গ্রন্থে সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি এই গ্রন্থে এক পর্যায়ে বলেন : ‘যদি কোনো সিংহ কথা বলতে পারত, তাহলে আমরা তার কথা বুঝতাম না।’ (If a lion could speak, we could not under stand him)। কেন বুঝতাম না? এজন্য যে সিংহের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, জীবনযাত্রা, ইচ্ছা আকাক্সক্ষা আমাদের মতো নয়। সে তার মতো করে ভাববে। তাই আমাদের জানা কোনো ভাষায়ও যদি সিংহ আমাদের সঙ্গে কথা বলে তার অনেক কথাই আমরা বুঝব না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক মানুষের সঙ্গেও আমাদের বোঝাপড়ার অনেক তফাৎ রয়েছে। জ্ঞান-অভিজ্ঞতা, রুচি, বিশেষ করে তাদের সংস্কৃতিগত পার্থক্য যদি অনেক বেশি মাত্রায় হয় তাহলে এদের মধ্যে অনেক বক্তব্যের বোধগম্যতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে অতিবাহিত করার পরও কোন স্বামী তার স্ত্রীর কাছে বা স্ত্রী তার স্বামীর কাছে সিংহ বা সিংহী হিসেবেই থেকে যেতে পারেন। কেউ কারও কথা ঠিকমতো না বোঝার কারণে অনেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আসলে একসঙ্গে থাকা, এক ধরনের খাবার খাওয়া ইত্যাদি বিষয়ের চাইতে পরস্পর অংশীদারমূলক জ্ঞান (shared know ledge),), বা সংস্কৃতি (shared culture) একে অন্যের কথা বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ করে। এ কারণেই কোনো ডাক্তারের কথা নার্স, কোনো শিক্ষকের কথা শিক্ষার্থী অনেকটা সহজেই বুঝতে পারেন। বাচ্চারা যখন কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে অনলাইনে কোনো গেম খেলে তখন তাদের পার্টনার বা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিছু বিশেষ আলাপচারিতায় রত থাকে। এই কথোপকথনে যারা ওই সংশ্লিষ্ট খেলায় পারদর্শী নয়, তাদের জন্য বোঝা খুবই কঠিন হয়ে থাকে। আমরা জানি, ভাষা হচ্ছে মনের ভাবের যোগাযোগ বা কমিটিকেট করার মাধ্যম। এই মাধ্যমকে একটি যন্ত্র উপকরণ (instrument) বা হাতিয়ার (tool) হিসেবে দেখতেও ভিপগেনস্টাইন প্রস্তাব করেন। তবে ভাষার টুল একটি নয়, একে বরং টুলবক্স বলাই ভালো। এই হাতিয়ারকে কোন ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করে তা বেশ জটিল বিষয়।

যাইহোক, ভাষাকে হাতিয়ার বা খেলার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে মানুষ মনোভাবের আদান-প্রদান বা প্রকাশের ক্ষেত্রে যে জটিল খেলায় অংশগ্রহণ করে সেই গেম বা খেলা না ধরতে পারার কারণ যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিস্থিতি ইত্যাদি, তেমনি করে ভিটগেনস্টাইন অন্য আর একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তা হলো সম্মোহনী অবস্থা বা জাদুকরী ক্ষমতা (bewitchment)। ভাষার বিচিত্র খেলায় শব্দ ও বাক্যগুলো বিভিন্ন উপমা, রূপক, নানারকম ভঙ্গি, উচ্চারণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশিত ভাষা তা কথ্য বা লিখিত যাই হোক না কেন, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে তারতম্যপূর্ণ অর্থে প্রকাশিত হতে পারে। ভাষার এমন কিছু সম্মোহনী দিক থাকতে পারে, যা আমাদের স্বাভাবিক মানবীয় বুদ্ধিকে জাদুকরণের মতো বশ করে ফেলতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে। এভাবে সাধারণ কথা থেকে শুরু করে নৈতিক ও ধর্মীয় বাণী, দার্শনিকতত্ত্ব সবই হয়ে উঠতে পারে নানাভাবে ভুল অর্থবোধক। ভিটগেনস্টাইন ভাষার বহুবিধ খেলার দ্বারা ভুলভাবে সম্মোহিত হওয়া থেকে সতর্ককরণকে দর্শনের প্রধানতম কাজ বলে মনে করেন। Philosophical Investigation-এ তিনি এক পর্যায়ে বলেন : ‘দর্শন হলো ভাষার দ্বারা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি সম্মোহিত হওয়ার বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ।’ (Philosophy is a battle against the bewitchment of our intelligence by means of language)। তবে ভাষার ভ্রান্ত বা অনাকাক্সিক্ষত সম্মোহন মুক্ত হতে হলে ভাষা খেলার নিয়ম বুঝতে হয়। কিন্তু এই খেলার কোনো সাধারণ বা সর্বজন ব্যবহার্য বিধি আছে কী? থাকলেও তা বুঝে ভাষার খেলায় অংশগ্রহণ করা মুশকিল। তবে এ ক্ষেত্রে মনে করা যায় যে, যিনি বক্তা তিনি যদি শ্রোতাদের সংস্কৃতি, বৌদ্ধিক ও জ্ঞানীয় মান এক কথায় শ্রোতা পাঠকের অবস্থা বিবেচনায় রেখে সবার জন্য উপযুক্ত এমন কোনো শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করে সতর্কভাবে সহজ করে উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে অবান্তর অর্থের বিভ্রাট এবং অনাকাক্সিক্ষত সম্মোহনের আশঙ্কা থেকে অনেকটা মুক্ত থাকা যেতে পারে। আর এ ধরনের প্রস্তুতির জন্য ভিটগেনস্টাইন বা অধুনা কোনো ভাষা দার্শনিকের চুলচেরা ভাষা ব্যবচ্ছেদের তত্ত্ব অনুশীলনের চাইতে প্লেটো এরিস্টটল প্রমুখ প্রাচীন দার্শনিক রিটেরিক বা বাক্কলায় যে পদ্ধতি ও নিয়ম চর্চা করে বক্তব্য পেশ করতে বলেছেন, সে বিষয়টি আমলে নেওয়া যেতে পারে। সক্রেটিস যেভাবে ডায়ালগ পদ্ধতিতে জ্ঞানচর্চা করেছেন, প্লেটো সেই পদ্ধতিকেই আদর্শ রিটোরিক বা বাক্কলা বলেছেন। এই পদ্ধতি অনেকটা ধাত্রীবিদ্যার মতো। ধাত্রীরা যেমন সন্তান প্রসবে সহায়তা করেন, তেমনি একই পদ্ধতিতে জ্ঞান, ধারণা, অর্থপূর্ণ বক্তব্য বেরিয়ে আসার পথ সুগম হয়। একে “maieutic method” বলেও চিহ্নি?ত করা হয়। ভিটগেইস্টাইনও অনেকটা এই পদ্ধতির অনুসরণ করেছেন, যাকে তিনি বোতলের মধ্যে আটকে পড়া মাছিকে ছিপি খুলে বাইরে আসতে সাহায্য করার মতো বিষয় বলে চিহ্নি?ত করেন। তবে মাছি বের করে আনতে হলে প্লেটো বা এরিস্টটল যেভাবে এগিয়েছেন ভিটগেনস্টাইন বা সমকালীন ভাষা দার্শনিক পদ সেরকম নয়। এসব পার্থক্য পর্যালোচনার দার্শনিক জটিলতা এখন থাক। আমরা আবার ফিরে আসি সেই শুরুতে উল্লেখিত ‘হাট্টিমাটি টিম’ কবিতার দিকে। এই কবিতায় উল্লেখিত ‘হাট্টিমাটি টিম’ বলে কিছুু আছে কী? ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিকভাবে হয়তো নেই। কিন্তু বিশেষ কৌশলগত অর্থে প্রয়োগ করলে যারা সেই কৌশল বা খেলা বুঝবে, তাদের জন্য তাও বিশেষভাবে অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে। আবার অর্থের তোয়াক্কা না করেও তো নির্মল আনন্দে শিশুরা আবৃত্তি করে চলে : ‘হাট্টিমাটিম টিম/তারা মাঠে পাড়ে ডিম/তাদের খাড়া দুটো শিং/তারা হাট্টিমাটিম টিম।’

আলোকিত বাংলাদেশ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত