ফল উৎপাদনে সফল বাংলাদেশ

টেকসই ব্যস্থাপনা জরুরি

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ; কিন্তু ফল উৎপাদনে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখন দেশের মানুষ অনেক প্রজাতির ফলের সঙ্গে পরিচিত এবং একই সঙ্গে আগের চেয়ে অধিক পরিমাণে ফল খেতে পারছে। এটা সম্ভব হয়েছে ফল উৎপাদনে দেশের বৈপ্লবিক উন্নতি ঘটার ফলে। এ মুহূর্তে বিশ্বে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড বাংলাদেশের। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, ২০ বছর আগে আম আর কাঁঠাল ছিল এই দেশের প্রধান ফল, এখন বাংলাদেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে। আগে হতো ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলের মোট উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয়, আমে সপ্তম ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে দশম। আম, কাঁঠালের বাইরে মৌসুমি ফলের মধ্যে আছে জাম, লিচু, কুল, কামরাঙা, পেঁপে, বেল, লেবু, আনারস, আতা, সফেদা, লটকন, তরমুজ, ফুটি ইত্যাদি।

শুধু ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির দিক থেকে নয়, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ফল খাওয়ার পরিমাণও গত এক যুগে দ্বিগুণ হয়েছে। এক হিসাবে ২০০৬ সালে বাংলাদেশের মানুষ দিনে ৫৫ গ্রাম করে ফল খেত, ২০১৯ সালে তা ৮৫ গ্রামে উঠে এসেছে। আমরা সহজেই ধারণা করতে পারি, বর্তমানে মাথাপিছু ফল খাওয়ার পরিমাণ আরও বেড়েছে। একসময় দেশে কাঁঠাল ও আম ছিল প্রধান ফল। এখন অন্তত ২২ প্রজাতির ফল বাংলাদেশের মানুষ নিয়মিত খায়। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে এটি একটি সুসংবাদ। অন্যদিকে নিত্যনতুন ফল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ সফলতা পেয়েছে। সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০০৮-০৯ সালে দেশে ফলের উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি টন। আর বর্তমানে ফলের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন। বিগত ১২ বছরে ফলের উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ। এটি একটি বড় ধরনের প্রাপ্তি। উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। দেশে প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ বসতবাড়ির অধিকাংশতেই অবহেলা ও অযতেœ ফল গাছ জন্মে থাকে। এগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয় অনুন্নত জাত এবং বীজ থেকে উৎপন্ন বিধায় এর ফলন অত্যন্ত কম। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখানে উন্নত জাতের ফলের চাষ সম্প্রসারণে কাজ চলছে।

ফল উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফল বিপণন ও ব্যবস্থাপনার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পেলে ফল চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি ফল সংরক্ষণেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। কৃষিমন্ত্রীর বরাতে প্রকাশ, দেশে প্রতি বছর সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ফসল ভেদে ২৫ থেকে ৪১ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তবে দেশি ফল উৎপাদনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হলেও, এখনও বিদেশি ফলের আমদানি করতে হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট আমদানি ফলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুরের দখলে। দেশে এখন আমদানিকৃত অনেক ফলেরই চাষ হচ্ছে। তবে দেশি ফলের উন্নত জাত উদ্ভাবনের প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। দেশে বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে বেশ কিছু উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন, অধিক ফল উৎপাদনে যা ভূমিকা রাখছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।