উদ্বেগজনক পর্যায়ে বিদেশে অর্থ পাচার

রেজাউল করিম খোকন, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও কলাম লেখক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই দশকের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ অর্থ জমা হয়েছে গত বছর। বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। ২০২১ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য ৯৫ টাকা ধরে হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। গত ২০২০ সালে সেখানকার ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা বা ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ এক লাফে ১ বছরে ৫৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার তথ্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সরকারের পক্ষ থেকে নামমাত্র কর দিয়ে পাচার হওয়া অর্থফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ৭ শতাংশ কর দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে দেশের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সরকারের এ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করছেন বাজেট ঘোষণার পর থেকে। বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হয়েছে। আর এ কারণেই তা ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে বাধা না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ওই একই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির দাবি করেছিলেন, সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশে যে অর্থ গেছে, তা বাংলাদেশ থেকে যায়নি। এদিকে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তাতে গত দুই দশকের মধ্যে গত বছরই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমার রেকর্ড হয়েছে।

২০০০ সালে সুইস ব্যাংকে জমা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৯৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালে এসে সেটি বেড়ে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮ হাজার ২৭৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা হওয়া অর্থ প্রথমবারের মতো ৫০ কোটি সুইস ফ্রাঁ অতিক্রম করেছে ২০১৪ সালে। এরপর ৭ বছরের মধ্যে চার বছরই সেখানে জমা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। গত ২০১৯ ও ২০২০ সালে পরপর ২ বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ কমেছিল। কিন্তু গত বছর এসে তা ৫৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এই টাকা পাচার হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। যার একটা বড় মাধ্যম হচ্ছে হুন্ডি। এর বাইরে টাকা পাচার হচ্ছে ব্যবসার নামে। দেশ থেকে বৈধভাবে টাকা পাঠানোর কোনো পদ্ধতি না থাকার কারণে অবৈধ পথেই পাচার হচ্ছে টাকা। আর পাচার হওয়া এ টাকা রাখা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি বাণিজ্যের আড়ালে কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়, তার প্রাক্কলন করে। তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। বলা যায়, এক অর্থ বছরের বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে যদি এত অর্থ বিদেশে পাচার হয় এবং বছরের পর বছর তা চলতে থাকে, তবে এ দেশের দ্রুত উন্নয়ন আশা করা বৃথা। এছাড়াও টাকা পাচারে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। দুর্নীতি ও চোরাচালানের মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। ওইসব টাকায় দুর্নীতিবাজরা বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলছেন, জমা রাখছেন বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এর বাইরে আরও অনেক ব্যাংকে বাংলাদেশের পাচারকারীদের টাকা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে মালয়েশিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বিদেশির জন্য মালয়েশিয়ান সরকারের সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী। দেশ থেকে বিদেশে টাকা নিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। কিন্তু এ পর্যন্ত কাউকে ব্যাংক থেকে এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তারপরেও বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় কীভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী দেশ হলো। কানাডায় রয়েছে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চল বেগমপাড়া। এছাড়া ব্রিটেন, হংকং, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকেও বাংলাদেশিদের টাকা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪ সালে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তখন সরকার থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় থাকলে সুইস ব্যাংকে কে কত টাকা রেখেছে, তা বের করা হবে। শুধু বেরই করা হবে না, দেশেও ফিরিয়ে আনা হবে। জাতীয় সংসদকে জানানো হয়, সরকার আমানতকারীদের তালিকা চেয়ে সুইজারল্যান্ড সরকারকে অনুরোধপত্র পাঠাবে। আর পাচার হওয়া অর্থ সুইস ব্যাংক থেকে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের সেই বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতির ৮ বছর পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ অর্থ পাচার করে সুইস ব্যাংকে টাকা জমা করেছে, এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থ ফেরত আনা তো দূরের কথা, সুইস ব্যাংক থেকে কোনো তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাই বাংলাদেশের নেই। অথচ বিশ্বের ১২১টি দেশ সুইস ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের তথ্য পাচ্ছে।

সুইস ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে তথ্য পাওয়ার একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো আছে। এর নাম হচ্ছে অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই)।

দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনা নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে অর্থ পাচার হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন সময়ে অর্থ পাচারের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাব, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুশাসন ইত্যাদি। এখনও দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেকে নানা রকম দুর্নীতির মাধমে অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করছে। এসব টাকা দেশের ব্যাংকে রাখলে জবাবদিহিতার মধ্যে পড়তে হতে পারে।

এমন আশঙ্কায় দেশের বাইরে অর্থ পাঠিয়ে নিরাপদ থাকতে চাইছেন তারা। সুইস ব্যাংকে গ্রাহকের তথ্য গোপন রাখার কারণে সেখানকার ব্যাংকগুলো বিভিন্ন অসৎ দুর্নীতিবাজ মানুষের উপার্জিত অবৈধ অর্থের জমা রাখার নিরাপদ জায়গা হিসেবে পরিচিত। দেশে এখন প্রায় ১ লাখ কোটিপতি রয়েছে। এদের বেশিরভাগই কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতা বলয়ের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে কালো টাকার মালিক থাকা অস্বাভাবিক নয়।

সরকারের উচিত হবে যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এদের অর্থের উৎস সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে সুশাসন, সুসংগঠিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সর্বোপরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা থাকলে অর্থ পাচার অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।

এদিকে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের পরিমাণ গত দুই দশক ধরে বেড়ে চললেও এসব অর্থ দেশে ফেরত আনা বা এসব অর্থের মালিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। এবারই বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে করছাড় বা করের ডিসকাউন্ট সুবিধা দিয়ে।

অতীত অভিজ্ঞতা ও তথ্য-উপাত্ত থেকে আমরা দেখেছি, নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়ে যায়। আগে বাণিজ্যের আড়ালে বাণিজ্য পুঁজি পাচার হতো।এখন আর্থিক পুঁজি পাচার হচ্ছে। আর এ কাজের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতি চক্রের আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটেছে। পাশাপাশি সরকারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এ কারণে পাচারের অর্থ নামমাত্র করে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাজেটীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়। বলা চলে, দুর্নীতির আন্তর্জাতিকীকরণ চক্রের হাতে এখন নীতিও ছিনতাই হয়ে গেছে। সুইস ব্যাংক আমানতের যে তথ্য প্রকাশ করছে, এটি পাচারের একটি অংশ। আর পাচারের অধিকাংশই কালো টাকা। ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যাংক থেকে অর্থ লুট, জালিয়াতি এবং বিভিন্ন অসৎ উপায়ে অর্জিত টাকা পাচার হচ্ছে।

তবে অর্থ পাচারের অধিকাংশই বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশ থেকে এ অর্থ পাচার হচ্ছে। কানাডায় বেগমপাড়া এবং মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আসছে, সবই পাচারের টাকা।

এক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার দুর্বল নজরদারি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহায়তা পাচ্ছে পাচারকারীরা। পরে কিছু টাকা রেমিট্যান্স আকারে ফিরে আসছে। দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমছে। বিনিয়োগের পরিবেশ নেই, আর এ কারণেই টাকা পাচার হচ্ছে। এছাড়া অনেকেই এদেশে টাকা রাখতে নিরাপদ মনে করেন না। এছাড়াও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দেশে রাখা কঠিন। ফলে টাকা বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। টাকা কারা পাচার করছে, সবার আগে তা চিহ্নিত করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। দেশের টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সরকারি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে থেকে যোগাযোগ করতে হবে। সাধারণভাবে বাংলাদেশে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

একদিকে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ নেই। অপরদিকে তারাই হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। কী কারণে এটি হচ্ছে তা বোঝা দরকার। এ টাকা পাচারের কয়েক কারণ হতে পারে। যেমন, তারা বিনিয়োগের পরিবেশ পাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় টিকে থাকতে পারছে না। অথবা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের আস্থা নেই।

সামগ্রিকভাবে কেন উচ্চবিত্তরা দেশে টাকা রাখে না, সেটি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। আবার যদি এ ধরনের কাজ আইনের আওতায় না এনে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে এটি বাড়তে থাকবে। এ অবস্থার উত্তরণে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচার শুধু দেশের অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না, দেশটির উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। বাংলাদেশে সে অর্থপাচার আজ উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে এসেছে। বাংলাদেশেও মুদ্রাপাচার রোধে কিছু সংস্থা কাজ করছে বটে; কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। এভাবে চললে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অর্থপাচারকারী দেশের তকমাটি পেয়ে যাবে।

ভারত, নেপাল এমনকি পাকিস্তানেও অর্থ পাচার অনেক কমেছে। বাংলাদেশে তা না কমে বাড়ছে কেন? সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ভারতসহ অনেক দেশের চুক্তি রয়েছে, যার ফলে সুইস ব্যাংকে রাখা সেসব দেশের আমানতকারীদের তথ্য দেশগুলো পেয়ে যায়। তাই সেসব দেশের আমানতকারীরা সুইস ব্যাংকে অবৈধ টাকা জমা রাখতে ভয় পায়, বাংলাদেশ এখনও তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না কেন?