ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শারদীয় শুভেচ্ছা

সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক
শারদীয় শুভেচ্ছা

নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শ্বেতশুভ্র কাশফুলের দোলা, বাতাসে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ- প্রকৃতির এ শোভনীয় রূপের মোহনীয় সজ্জায় ধ্বনিত শরতের আগমনী বার্তা। সঙ্গে নিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ রকম স্লোগান সামনে রেখে এদেশে সর্বদা ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই উৎসবের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে যথারীতি এ ধারারই প্রতিফলন ঘটেছে। আজ বিজয়া দশমী। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ তিথি অর্থাৎ মহালয়ায় দেবী দুর্গার আগমন, আর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সে উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটবে আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ পূজা একই সঙ্গে একটা নিগূঢ় সামাজিক ঐতিহ্যপূর্ণ উৎসব, যা এ বাংলায় আবহমানকাল থেকেই পালিত হয়ে আসছে। এটি বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবও বটে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশে এ উৎসব আনন্দঘনভাবে উদযাপিত হচ্ছে- এটাই চিরাচরিত বাস্তবতা। সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা।

সনাতন ধর্ম মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি বছর এ শরৎকালে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোক অর্থাৎ এ পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী দুর্গার। ষষ্ঠ তিথি থেকে দশমী পর্যন্ত মর্ত্যলোকে তার অবস্থান এবং শেষ দিনের বিসর্জন রূপক অর্থ বহন করে। কারণ তিনি উৎসব শেষে ঠাঁই নেন পূজারির অন্তরে। সেখানে নিত্য বিরাজ করেন দেবী দুর্গা। বলা হয়, অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে দেবকুলকে রক্ষা করে দেবী দুর্গা নিশ্চিত করেছিলেন অন্যায় ও অশুভ শক্তির পরাজয় এবং ন্যায় ও শুভশক্তির জয়। ফলে দেবী দুর্গা শুধু সৌন্দর্য-মমতা-সৃজনের আধার হিসেবে বিবেচিত না হয়ে অসহায় ও নিপীড়িতের আশ্রয় হিসেবেও বিবেচিত, যিনি মানবসমাজের জন্য বয়ে এনেছেন মঙ্গল বার্তা। আবার মর্ত্যলোকে এসে দেবী দুর্গা কর্তৃত্ববাদ দূর করেছেন; অশুভ শক্তির বিনাশ করেছেন। নারী ক্ষমতায়নের বড় এক প্রতীক তিনি। অসুর বিনাশে দেবী দুর্গার সাহস নারীমুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য লড়াকু নারীদের অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। সরকার প্রতি বছর নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে গত দু’বছর অনেকটাই নিষ্প্রাণ ছিল বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আলোকসজ্জাসহ উৎসবসংশ্লিষ্ট বিষয় পরিহার করে শুধু ‘সাত্ত্বিক পূজায়’ সীমিত রাখা হয়েছিল আয়োজন; ছিল বাড়তি সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়গুলোও। তবে এবার করোনার সংকট ও ভয় কাটিয়ে ফিরে এসেছে চিরচেনা সেই উৎসবের আমেজ। সারাদেশের মণ্ডপ-মন্দিরে বর্ণাঢ্য উৎসব পরিলক্ষিত হয়। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষও শারদীয় উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার সর্বত্র পরিলক্ষিত। অশুভ শক্তিকে বধ করে বিশ্ববাসীকে অভয় আর শান্তির বার্তা দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন। প্রত্যাশা, বিশ্বময় সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে স্থায়ী হোক সম্প্রীতির বন্ধন। পৃথিবীর সর্বত্র সম্প্রীতির অমিয় ধারা বহমান থাকুক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত