প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১১ অক্টোবর, ২০২০
কূটনীতিতে স্থায়ী বন্ধু স্থায়ী শত্রু বলে কোনো কথা নেই। কখন কে কার বন্ধু বা শত্রু হবে, সেটা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারবে না। সময়ের বাস্তবতায় বন্ধুত্ব গড়ে উঠে আবার শত্রু ভাব তৈরি হয়। আধুনিক এই যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে এককভাবে কোনো দেশই চলতে পারে না। সর্বদিক থেকে স্বাবলম্বী হলেও কোনো দেশ একা চলতে পারে না। বিশ্ব সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থাটাও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রকেও বৃহৎ পরিসরে চিন্তার আলোকে চলতে হবে। রাষ্ট্র একটি সংগঠন, এই সংগঠন পরিচালনা করতে সুযোগ্য নেতৃত্ব দরকার। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। তাই রাষ্ট্র পরিচালকদের মধ্যে যিনি প্রধান ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরিতে তাকে হতে হবে কৌশলী। নিজ দেশের সম্পূর্ণ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, যে নেতা যত বেশি কৌশলী, তার দেশ ততবেশি লাভবান হয়। কূটনৈতিক যুদ্ধটার একটা আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে ছিলেন উদার। তার মধ্যে ছিল মানবোচিত মহান ভাবনা। কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, বন্ধুত্ব। উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ়বিশ্বাসের সহাবস্থান ছাড়া সম্মান নিয়ে পৃথিবীতে টিকে থাকা যায় না। মানুষের সামগ্রিক উন্নতির ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো সামনে আসে তার পর্যালোচনা সাপেক্ষে বঙ্গবন্ধু তার বৈদেশিক নীতিগুলো ঠিক করেন। মানবের উন্নতি ও পূর্ণতা সাধনে তিনি ছিলেন সদা তৎপর। যে নীতিতে দর্শনশক্তি ও নম্রতার সমন্বয়ের কথা বলে, সেই দর্শনই সুউন্নত চারিত্রিক বিকাশের পক্ষে সহায়ক হয়। একটা জাতিকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কৌশলদারিত্বের অংশীদার করা সহজ হয় এবং দেশের স্বার্থও অক্ষুণœ থাকে। আমরা সাদামাটা ভাষায় পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে যে সব কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা করি তার গভীরতা নিয়ে ততটা ভাবনার জগৎ তৈরি করি না। রাষ্ট্র পরিচালক তথা সমগ্র নাগরিকদেরই এই ভাব জগতের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
ফিরে আসি চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের কথায়। চীন একটি বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্র। পরাশক্তির একটি। গত ৪ অক্টোবর ২০২০ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর পূর্ণ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও চীন স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট। আর কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ৪ অক্টোবর ১৯৭৫। আমাদের জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ১৫ দিনের মধ্যে চীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে অপশক্তি বাংলাদেশের মসনদ দখল করে তাদেরকেই স্বীকৃতি দেয় চীন। এ কথাটি এখানে উল্লেখ না করলেই নয় যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনেরও বিরোধীতাকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম একটি প্রধান দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়লাভের ৫ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ৪ এপ্রিল ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি প্রদান করে। তবে চীনের স্বীকৃতির দানে এত দেরীর পেছনে অনেক রাজনৈতিক কারণ ছিল। আজকের এ লেখায় সে কারণগুলো উপস্থাপন করতে চাই না। উল্লেখ্য, চীন যখন স্বীকৃতি দেয় তখন চীনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ঝে-দু-এনাই এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন ডং বাইও, ইনি পাকিস্তানের ফজলে এলাহি চৌধুরী ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবেও পরিচিত। জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
যাহোক চীন এখন আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা উল্লেখ করার মতো। রাজনীতির নানা পথ পরিক্রমায় চীনের ঘনিষ্ঠতা দিন দিন বাড়ছে। চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটাকে নতুন উচ্চতায় নিতে চায়। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর উপলক্ষে এমন বার্তা দিয়েছেন গত ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে যৌথভাবে বেল্ট-অ্যান্ড রোড প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত থাকার কথা জানান। চীনের প্রেসিডেন্ট বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, দু-দেশ একে অপরকে সম্মান জানিয়ে আসছে। পারস্পরিক বিশ্বাসে সহযোগিতাও জোরদার করেছে, এতে দু’দেশই সুস্পষ্ট সুবিধা বয়ে এনেছে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পর চীন-বাংলাদেশ নানা সংকটের মুখোমুখি হলেও মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করছে। দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। পাল্টা বার্তায় রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক দ্রুতবিকাশ লাভ করছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাও অব্যহত রয়েছে। যার প্রতি বাংলাদেশ বেশ গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতে দুই-দেশের মধ্যে ঘনিষ্ট ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে আশা করেন আব্দুল হামিদ। একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী শি কোকিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিনন্দন বার্তা বিনিময় করেন। লি অভিনন্দন বার্তায় বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের জন্য দুইদেশ তাদের জনগণের উন্নতিতে উৎসাহী। অন্যদিকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের সময়ের পরীক্ষিত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা থেকেই গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন। মিয়ানমারের গৃহহীন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করায় চীনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগি দেশ চীন। কৃষি বিনিয়োগ ও শিল্পবাণিজ্য কেন্দ্রীক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চীনের সঙ্গে ব্যাপক বিস্তার প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। আগামী এক থেকে দেড় দশকের মধ্যে চীন বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগা খাতে ৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে বাংলাদেশ আশা করে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে চীন। ভূরাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানচিত্র পৃথিবীর এমন এক জায়গায় অবস্থিত যা চীনকে আগ্রহী করে তুলে। অন্যদিকে প্রতিবেশি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ-ভারত বাংলাদেশের অন্যতম ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক কারণেই রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশের ওপর। এটি চীন খুব সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। সে জন্য চীনও তার প্রভাব বলয় বৃদ্ধির জন্য নানাভাবে তৎপর। অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী চীন অর্থনৈতিক কূটনীতির সম্পর্ক জোরদার করতে এমন এক উচ্চতায় উঠে গেছে যে, উচ্চতা দেখে এটা বলা যেতেই পারে মেরেছিস, মেরেছিস কলসীর কানা তাই বলে প্রেম দেব না? হ্যাঁ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে, তথা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চীনের ভূমিকা যাই হোক সেটা মনে রেখে কী লাভ? বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীন গুরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ ও মেঘা প্রকল্পে অর্থায়ন করে বন্ধুত্বের নজির স্থাপন করেছে। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরকালে দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ব্যবসা ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনীতির নব উত্থানশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সে জন্যেই চীনের আগ্রহটাও অন্যমাত্রায় পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন কিছুদিন আগে বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের রক্তের সম্পর্ক আর চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক।’ বৃহৎ শক্তির দুটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যালেন্স রক্ষা করতেই তিনি এমনটি বলেছেন। চীনের সঙ্গে অর্থনীতির কূটনীতি ব্যাপক গতিশীলতায় ভারত যাতে আমাদের অন্য চোখে না দেখে সে জন্যই আগ বাড়িয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের কথাটি তুলে ধরেন। এ কথা বলার একটা নৈর্ব্যক্তিক কারণও বিদ্যমান। বর্তমানে চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে একটা বৈরীভাব তৈরি হয়েছে। চীন-ভারতের রেশারেশিটা নতুন নয়। দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সম্প্রতি লাদাখে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতিও বিরাজমান। এমনি অবস্থায় চীন-বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা আরও উচ্চমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশও কৌশলগত সুবিধাটা মাথায় রেখে চীনের সঙ্গে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে উদারচিত্তে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে একটা নববিশেষত্ব রয়েছে। অতীতে চীন বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে মেনে নিতে চায়নি। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির ওপর পাকিস্তানী জান্তা বাহিনীর বর্বরতাকে চীন পাকিস্তানী বাহিনীর শক্তির মহিমা প্রচার করেছে। সে সময় তাদের অভিব্যক্তি ছিল পাকিস্তানী বাহিনী দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই শত্রুবাহিনী নিধন করছে। নিরস্ত্র বাঙালি সেদিন চীনের কাছেও শত্রু ছিল। সময় বদলে গেছে। আমরাও অতীতের এসব বিষয় মনে রাখতে চাই না। নেতিবাচক বিষয় মনে রাখাটা নিজেদেরই ক্ষতি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি চীন-ভারত সত্যি ব্যাপকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে তবে বাংলাদেশ কার পাশে দাঁড়াবে? একদিকে রক্তের ভাই, অন্যদিকে অর্থনীতির ভাই। এই দুদুল্যমান অবস্থায় বাংলাদেশকে হয়তো বা নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যদি নিরপেক্ষ থাকে তখন ভারত আমাদের বেঈমান বলতে পারে, আবার চীন প্রতারক ভাবতে পারে। নিরপেক্ষ থাকার এই একটা অসুবিধা রয়েছে। আর যদি চীন অথবা ভারতের যে কোনো একজনের পক্ষ নেয় বা পাশে দাঁড়ায় সে ক্ষেত্রে যে দেশের পক্ষ নেওয়া হবে তারা বুকে জড়িয়ে ধরবে। অন্যটি ধিক্কার দেবে এটাই স্বাভাবিক। আর তাই আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগ বাড়িয়ে চীন-ভারতকে সুনির্দিষ্ট দুটি আসন উপস্থাপন করাটা যথার্থ হয়েছে বলে মনে করি না। সুদূরপ্রসারি চিন্তার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মন্তব্য করা উচিৎ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলতে পারতেন বাংলাদেশ প্রতিবেশি দু’দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যেতে চায়। ব্যাস, এ পর্যন্তই। কিন্তু তিনি সুনির্দিষ্ট করে দিলেন কার সঙ্গে কী মার্গের সম্পর্ক!
চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর পূর্তি হলো। সম্পর্কের এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ জামানার ১৭ বছর চলছে। শেখ হাসিনার সময় চীনের সঙ্গে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব বিস্ময়কর উচ্চতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। চীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সীপ্রশংসা করেছে। সারা বিশ্বই শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেননা দেশ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের গুণেই উন্নয়নের মহাসড়কে উঠতে পেরেছে। উদীয়মান শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলা করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা যথেষ্ট প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। চীন শেখ হাসিনার ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বকে কূর্নিশ করে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক অটুট-অক্ষুণœ থাক এ প্রত্যাশার সবার। সে জন্য উভয়কে উদার নৈতিক মানসিকতায় সম্পর্ক জড়িত কাজগুলো করতে হবে। পরস্পরে দুঃসময়েও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দুই দেশের মৈত্রী বন্ধনকে অটুট রাখার জন্য উভয়ের ইতিবাচক ভূমিকা সমুন্নত থাকবে এ আশাবাদ সবার।
পাদটীকা : গত ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন উপলক্ষে চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে গিয়ে কেক উপহার দিয়ে দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে।