প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে চেপে বসা স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে, তার চূড়ান্ত বৈধতা আসতে যাচ্ছে একটি আসন্ন গণভোটের মাধ্যমে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহিত করে ফটোকার্ড প্রকাশের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা জনমনে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রচারণা শুধু একটি ভোটদান প্রক্রিয়া নয়, বরং ফ্যাসিবাদমুক্ত আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ননির্ভর করছে এর স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচার এবং নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগের ওপর।
প্রেস উইংয়ের ফটোকার্ডে বলা হয়েছে- ‘গণভোটের ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার রাস্তা চিরতরে বন্ধ করুন।’ এই স্লোগানটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত দেড় দশকে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে ফ্যাসিবাদের যে শেকড় গেড়েছিল, তা উপড়ে ফেলা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো শক্তি পুনরায় অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, তার একটি রক্ষাকবচ হিসেবে এই গণভোটকে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে, তাদের একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু সাংবিধানিক সংস্কার নয়, বরং এটি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী গণঘোষণা।
১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিক আটটি ফটোকার্ড প্রকাশের উদ্যোগটি সময়োপযোগী। আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা এবং বেসরকারি প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে যে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখা যথেষ্ট নয়, বরং ভোটারের মনে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি করা জরুরি যে, তার ভোটটি রাষ্ট্রের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
গণভোট হলো একটি জাতির সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান থেকে সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রচারণার স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ভয় বা প্রভাবমুক্ত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদ ফেরার পথ বন্ধ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।