জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন স্বেচ্ছায় রক্তদান
মুহিবুল হাসান রাফি
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রক্তদান কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নয়। এটা নিঃস্বার্থ মানব উপকার। দেশে অগনিত মানুষ মারা যায় থ্যালাসেমিয়ার মতো নীরব রোগে ভুগে রক্তের অভাবে। হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ’র তথ্য জানিয়েছে, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে মানবজীবনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা, ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের এ চাহিদা পূরণে নতুন করে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার কোনও বিকল্প নেই।
সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি যেকোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ-সক্ষম ব্যক্তির প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দেওয়া সম্ভব। শুধু প্রয়োজন একটি সহানুভূতিশীল মনমানসিকতা। স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর মূল্যায়ন, রক্তদানে ভয়ভীতি দূরীকরণ, সঠিক সময়ে রক্তের মজুতকরণের প্রযুক্ত কলাকৌশল অবলম্বনের অভীষ্টেই প্রতিবছর পালিত হয় ‘রক্তদান দিবস’। নিরাপদ রক্ত নিশ্চিত করা ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি, সি এর মত মারণঘাতি রোগ ও অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ থাকার নিমিত্তে রক্তের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও এ দিবসের অন্যতম প্রধান দিক।
প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮-১০ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে। বাকিটা আত্মীয়স্বজন ও পেশাদার রক্তদাতাদের মধ্য থেকে আসে। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে একটা বড় অংশ পূরণ করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, রেডক্রিসেন্টসহ বেসরকারি সংস্থা। পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের অধিকাংশই সিফিলিস, হেপাটাইটিস-বি বা এইডসসহ নানা রোগে আক্রান্ত। ফলে এই দূষিত রক্ত পরিসঞ্চালিত হয়ে রক্তগ্রহীতা আক্রান্ত হন দুরারোগ্য ব্যাধিতে। তাই প্রয়োজন নিরাপদ ও সুস্থ্য রক্তের। রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদ্? রোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। হার্ট ভালো থাকে এবং রক্তদাতা সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকেন। রক্তদানে শরীরের ফ্রি রেডিকেলস-এর পরিমাণ কমে যায়। তাই বার্ধক্যজনিত জটিলতা দেরিতে আসে। কেউ আবার মনে করেন এতে হৃদপি- দুর্বল বা রক্তচাপ কম হয়, এমনকি কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেন।
যেকোনো সুস্থ-সবল মানুষ রক্তদান করলে রক্তদাতার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। এমনিতেই রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চার মাস পরপর নষ্ট বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। রক্ত দিয়ে যুদ্ধ নয় বরং রক্ত দিয়েই জীবন জয় করা যায়। আসুন রক্ত দেই, জীবন বাঁচাই।
মুহিবুল হাসান রাফি
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ
