প্রজ্জ্বলন হওয়া আলো ম্রিয়মান লাগছে
আবদুল হামিদ মাহবুব
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
প্রায় সতের বছর নির্বাসন থেকে ফিরে তারেক রহমান প্রথম জনসভায় যেভাবে বক্তব্য রেখেছিলেন, তিনি যেভাবে দেহভঙ্গি করেছিলেন, সিংহাসন মার্কা চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসেছিলেন, সিনিয়র নেতাদের সম্মান দেখিয়েছিলেন; সেসব দেখে আমি আশান্বিত হয়েছিলাম। আশা আরও বেড়েছিল সিলেটে তার প্রথম নির্বাচনি জনসভার ভাষণ শুনেও। কিন্তু পরবর্তী কয়েকটি জনসভায় তার এলোমেলো অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য শুনে আশা আর থাকল না!
আমি এই লেখায়, আমার ভিতরে যে আশার আলো প্রজ্জ্বলন হয়েছিল এবং সেই আলো এখন লাগছে ম্রিয়মান। কেন ম্রিয়মান লাগছে? সেই কথাগুলোর কিছু কিছু বলতে চাচ্ছি। হয়তো কারও ভালো লাগবে, কারও কারও ভালো লাগবে না। কেউ কেউ এমন লেখার জন্য আমার সমালোচনা করবেন। এমনও হতে পারে এক দু’জন গালাগালও করতে পারেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি প্রথম জনসভা করেছেন সিলেটে। তার সিলেটের জনসভার বক্তব্যে ব্রিটেনের (যুক্তরাজ্য) দুই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, ‘তারা দুজন রোগীদের সেবার বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছিলেন। কোনো অসুস্থ রোগী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ‘কল’ করলে সেটা কত সময়ের ভেতরে এসে পৌঁছাবে? ওটা নিয়ে। একজন বললেন এখন ১৯ মিনিট লাগে, আগামীতে আমি নির্বাচিত হলে আরও এক মিনিট কমিয়ে সেটা ১৮ মিনিট করবো। অন্য প্রার্থী বললেন, আমি এটা পাঁচ মিনিটে নিয়ে আসবো। কেউ ‘কল’ করলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তার পাশে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাবে।’ উন্নত দেশে মানুষের চিকিৎসা সেবা কোন পর্যায়ে আছে তার কথা থেকে আমরা সেটা ঐদিন বুঝতে পেরেছিলাম। আশা রেখেছিলাম তিনিও ক্ষমতায় গেলে আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থাগুলো প্রবর্তন করবেন। বিনা চিকিৎসায় কাউকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে না। তার মুখে এমন বক্তব্য শুনে আশান্বিত হয়েছিলাম। মনে আশা জেগেছিল এই ভেবে যে, তিনি ১৭ বছর ব্রিটেনে থেকে তাদের রাজনীতি ধারণ করে দেশে ফিরেছেন। আমাদের দেশেও জনগণকে শান্তি স্বস্তি দেওয়ার রাজনীতি ফিরবে, এই আশায় বুক বেঁধেছিলাম।
আবদুল হামিদ মাহবুব
সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যক
