জন্মই আমার আজন্ম পাপ
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়ায় দাউদ হায়দারের কথাটির মর্মার্থ বুঝতে বেশি কষ্ট হয়নি। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের দেশটিতে রাত পোহালেই দেখা মিলে নতুন কালারের সমস্যা। স্বাধীনতার পর থেকে পঞ্চান্ন বছর ধরে এভাবেই চলছে দেশটির হাল হকিকত। এসব জঞ্জাল থেকে উত্তরণের কী কোনো উপায়ই নেই? সমস্যাগুলো থেকে এত তাড়াতাড়ি রেহাই পেলে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব যে আর অর্জন হবে না। আমার বাবা কৃষক- কৃষিতে যতটুকু ভুর্তুকি পাওয়া তার অধিকার ছিল, সে কী যথাযথভাবে ততটুকু পেয়েছে। অর্নাস শেষ করে আমার বড় ভাই তিন বছর ধরে বেকার কেন? এই দায়ভার কার, সরকার নিবে না আমার ভাইয়ের নিজের? চিকিৎসার অভাবে বৃদ্ধ দাদি আজ মুমূর্ষু সময় পার করছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতের এত নাজেহাল অবস্থা কেন? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, নিয়োগ ব্যবস্থা, আমদানি রপ্তানি সিন্ডিকেটসহ এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতিমুক্ত আছে। আমরা সবাই দেশপ্রেমিক দাবি করি, মনে হয় সুযোগের অভাবে সৎ থাকি। স্বাধীনতার পর থেকে যখন যে-ই এসেছে লুটেপুটে খেতে কম করেনি। এ জাতি সব সংকট কাটিয়ে স্বস্তির শ্বাস নিবে কবে? তৃণমূল থেকে রাষ্ট্র প্রধান জনগণের হক মেরে খাবে না? স্বাধীনতার পর থেকে যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছিল, তা নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশের বেশি, তা বর্তমানে প্রায় ১৮-২০ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে। গড় আয়ু ৫০ বছরের নিচ থেকে বেড়ে ৭২ বছরের বেশি হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার প্রায় সর্বজনীন। তৈরি পোশাক (RMG) খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ। প্রবাসী আয় বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এত এত ঝকঝকা ফকফকা রিপোর্ট থাকলেও বাস্তবে কতটা পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা শুধু রিপোর্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এ সব রিপোর্ট আমাদের সন্তুষ্টির কারণ নয়। কারণ এই পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছে গভীর কাঠামোগত সমস্যা। অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট, ব্যাংক খাতে অনিয়ম, বেকারত্ব, শিক্ষার মানহীনতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক বিভাজন ও পরিবেশ বিপর্যয়, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এসব সমস্যার গভীরে গিয়ে কারণ বিশ্লেষণ ও বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা এখন কতটা জরুরি? বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। হুটহাট করে জিনিসপত্রে দাম বাড়ার কারণ কী? আমদানি রপ্তানি সিন্ডিকেটের কালো হাত ভাঙতে সক্ষম হবো কবে? নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে জ্বালানি, ট্রেনের ভাড়া, বাসাভাড়া, সব ক্ষেত্রেই ব্যয় লাগামহীনভাবে বাড়ছে। সাধারণ মানুষের আয় সেই অনুপাতে না বাড়ায় জীবনযাত্রার মান চাপে পড়ছে। দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা—সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুতদারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোন সংকট কালে সাময়িক পণ্যের দাম বাড়লে, সংকট নিরসনের পরে দাম কমে না কেন? সাধারণ জনগণ থেকে সরকারকে ছুড়ে দেওয়া এ এক কঠিন প্রশ্ন। সমাধানের জন্য প্রয়োজন কী? বাজার তদারকি জোরদার করা, উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ। একই সাথে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা জরুরি। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশে পণ্যের দাম বাড়ার একটা সংস্কৃতি আগে থেকেই রয়ে গেছে। গঠিত নতুন সরকার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে বলে আশাবাদী। গত এক দশকে বাংলাদেশ গড়ে ৬.৭ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তবে কোভিড-১৯ মহামারির পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং ডলার সংকট অর্থনীতিকে হাতে ধরে চাপে ফেলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি ৯.১০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি অনেক সময় দ্বিগুণ অঙ্ক ছুঁয়েছে। এতে করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয় কমে গেছে। একসময় রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রিজার্ভ কমে গেলে আমদানি ব্যয় মেটানো কঠিন হয় এবং মুদ্রার ওপর স্বাভাবিক ভাবেই চাপ বাড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ঋণ পুনঃতফসিল ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন। ব্যাংক খাত দুর্বল হলে বিনিয়োগ কমে যায় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। ব্যাংকিং খাতে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নাই। গার্মেন্টস শিল্পের উপর একক ভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি। রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা এখন অনেক জরুরি। কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। বাংলাদেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী বেকারত্বের হার প্রায় ৪-৫ শতাংশ হলেও তরুণদের মধ্যে এই হার অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) তথ্য অনুযায়ী, যুব বেকারত্বের হার সাধারণ বেকারত্বের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে মূল কারণ কী? প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু শিল্পায়নের গতি সেই অনুপাতে নয়। ফলে অনেকেই সরকারি চাকরির সীমিত পদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা প্রতিযোগিতা দ্বিগুণ করছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার ২০ শতাংশের কম, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে তা ৫০-৬০ শতাংশ। দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রতিযোগিতা কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাস করছে, কিন্তু তাদের উপযুক্ত চাকরির সুযোগ সীমিত। অনেকেই দক্ষতার অভাবে শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়ছেন। আবার অনেকে উচ্চশিক্ষিত হয়েও কম দক্ষতার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন—যা ‘আন্ডারএমপ্লয়মেন্ট’ নামে পরিচিত।
টিভেট (TVET) শিক্ষার প্রসার বাড়নোর গুরুত্ব বুঝতে হবে। আইটি, এআই, রোবোটিক্স ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। স্টার্টআপে বিনিয়োগ সিস্টেম চালু করা। বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দক্ষ কর্মী প্রেরণে জোর দিতে হবে। ২০২৬ সালে এসে শিক্ষা ব্যবস্থার বিপ্লব ঘটিয়ে শ্রমবাজারমুখী করা প্রয়োজন বলে মনে করি। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার ৯৮ শতাংশের বেশি হলেও মানগত উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থীই মৌলিক গণিত ও পাঠ দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। কেন পিছিয়ে রয়েছে, এর সমাধান কী? বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় জিডিপির ১ শতাংশেরও কম। আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে খুব কম প্রতিষ্ঠানই জায়গা করে নিতে পারছে। যা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার পরিবর্তে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা চাকরির বাজারে অযোগ্যতা তৈরি করছে। কোচিং নির্ভর শিক্ষা বন্ধ করতে হবে। গবেষণা পর্যাপ্ত অনুদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ করা। পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ না করতে পারলে যতই উন্নয়ন উন্নয়ন বলে চিল্লায় লাভ নাই। প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ শিক্ষা আমাদের জন্য ফরজ হয়ে দাড়িয়েছে। ২০২৬-এ এসে প্রযুক্তিতে আমরা অনেক পিছিয়ে। দুর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা। প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বচ্ছতার অভাব এসব কারণে অনেক সময় প্রকল্পের অর্থ অপচয় হয় এবং জনসেবা ব্যাহত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশ মাঝামাঝি বা নিম্ন অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়ক্ষেপণ ও অনিয়ম প্রায়শই আলোচিত। দুর্নীতির প্রভাবে উন্নয়ন কাঠামো চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়াটা লজ্জাজনক। দুর্নীতি বাড়লে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। দেশে এত এত অস্থিরতা, সহিংসতার মূল কারণ এই দুর্নীতি। আমরা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে ব্যর্থ। করণ দুদক প্রায় রাজনৈতিক দলের প্রভাবে চলে। এই নোংরা সিস্টেম বন্ধ করা এখন সময়ে দাবি। সর্বত্র ই-গভর্নেন্স চালু করতে পারলে দুর্নীতি অনেক গুণে কমানো সম্ভব। তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না। এটি সামাজিক নৈতিকতাকেও দুর্বল করে তুলে। যখন মানুষ দেখে অন্যায় করে পার পাওয়া যায়, তখন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যায়। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। চিকিৎসা খাত এত নিম্ন মানের হলে জনস্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ আসে ব্যক্তিগত পকেট থেকে, যা দরিদ্র পরিবারকে দারিদ্র্যের ফাঁদে ফেলে। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো ইচ্ছা মতো সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকেন। ফলে নিম্ন বিত্ত মানুষজন ভালো চিকিৎসা পাওয়ার আশা ছেড়ে দিচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০,০০০ জনে যে সংখ্যক চিকিৎসক প্রয়োজন, বাংলাদেশে তা তুলনামূলক কম। সরকারি হাসপাতাল গুলো নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি করা জরুরি। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবীমা চালু করার দিকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে নগণ্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্প দূষণ ও বন উজাড় পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করছে। প্রতি বছর বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীভাঙনে গৃহহীন পরিবার ছিন্নমূল বসবাস করছে। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপে। আসলে এগুলো আমাদের জন্য অভিশাপের মতো। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি। আমরা কতটা সবুজ নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি? ঢাকাসহ দেশের সব শহর গুলোকে সবুজায়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের সদ্ব্যবহার করা নৈতিক দায়িত্ব। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক, মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা জাতীয় ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানের দ্বারা প্রভাবিত। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাতের রাজনীতি জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তুলেছে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
