রক্ষক যখন ভক্ষক আইন তখন নির্বাক

তৈয়বা খানম

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো নারী নিরাপত্তা। নতুন সরকার গঠন হয়েছে তবে নারী নিরাপত্তা আদৌ কী নিশ্চিত হবে প্রশ্ন থেকে যায় মনের গহিনে। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ এই তিন বিভাগের সমন্বয়ে সুষ্ঠু বিচারকার্য পরিচালিত হয়। দেশ নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।

কিন্তু এমন মহান পেশায় নিয়োজিত কিছু লোক নিজ কর্মগুণে পেশাদারিত্বের জায়গাকে কলুষিত করছেন নিজ কর্মগুণে। তারা ভাবছেন, ক্ষমতার দাপটে তাদের অশালীন আচরণের পর্দা কখনও উঠবে না। কিছু কুৎসিত মানুষের ন্যক্কারজনক কাজ নারী সম্ভাবনার পথে বিরাট বাধা। নারীদের অসহায়ত্ব ও সরলতাকে পুঁজি করে তাদের অপদস্ত করে থাকেন। কেউ কেউ নারীদের চাকরি দেওয়া, সঠিক বিচার আদায় করে দেওয়া এবং সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেন। কেউবা আবার ক্ষমতা বলে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখেন প্রতিবাদ করতে।

আমি অবশ্যই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা রাখি, তবে প্রবাদ আছে, ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য’। দুষ্টু লোক যতই জ্ঞানী হোক তার দ্বারা সমাজের উপকার আশা করা যায় না। বরং এমন শিক্ষিত লোকের দ্বারা ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। ভালো মানুষের মুখোশ পরিধান করে যারা সমাজে অন্যায় ও অবিচার করেন তাদের পর্দা ফাঁস করতে হবে। কেউ যেন ক্ষমতাকে নিজ নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারেন এই ব্যাপারে নজর দেওয়া জরুরি। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ও ভরসা অটুট রাখতে এই বাহিনীর নীতি নির্ধারণে আনতে হবে ব্যাপক পরিবর্তন। এই বাহিনীকে সুঠামো করে তুলতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের কর্মবিধির ব্যাপারে জবাবদিহিতার জায়গা পরিষ্কার করতে হবে।

সাধারণ জনগণ যেন সহজতর উপায়ে অভিযোগ জমা করতে পারেন তার জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যাপারে জোর দিতে হবে।

নারী নিরাপত্তা সেল গঠন করতে হবে। নারীরা যেন নিঃসংকোচে তাদের প্রতি হওয়া নিন্দনীয় আচরণ নিঃসংকোচে প্রকাশ করতে পারে, সেই বলার জায়গাটাকে মসৃণ করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিযোগকৃত ব্যক্তির গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। আগামীর নতুন দেশ বিনির্মাণে আমরা নারীদের একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের প্রত্যাশা রাখতে চাই। আমরা চাই, নারীরা শুধু নীরবে সয়ে গিয়ে আর নিজেদের চার দেওয়ালে আবদ্ধ না রাখুক। নারী নিপীড়নের পর্দা উঠার এখনই সময়। আমাদের নারী সম্ভাবনাকে থামিয়ে দেয় এই কুচক্রী মহল।

আমাদের সমাজের অর্ধেক নারীর এই সম্ভাবনাকে মহামঞ্চে উপস্থাপন করতে কুচক্রীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নারী লালসার বস্তু হিসেবে নয়; মানুষ হিসাবে মূল্যায়িত হোক- এটাই প্রত্যাশিত।

তৈয়বা খানম

শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম