চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজা
ড. মো. আনোয়ার হোসেন, প্রাবন্ধিক, প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী সংগঠন ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল এন্টি অ্যালকোহল
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নবম হিজরিতে রোজা ফরজ হওয়ার পর থেকে এটি শুধু একটি ধর্মীয় বিধান হিসেবেই পালিত হয়নি, বরং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় এর বিস্ময়কর সব শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বা সবিরাম উপবাসের যে জয়জয়কার, তার মূলে রয়েছে ইসলামের এই শাশ্বত বিধান। রোজা শুধু আত্মশুদ্ধির মাধ্যম নয়, বরং দেহঘড়িকে রিদমে ফেরানোর এক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। প্রখ্যাত কবি কায়কোবাদের ভাষায়, ‘রোজা রাখি শুদ্ধ করি নিজ আত্মা ও কায়া, প্রভুর প্রেমে সিক্ত করি হৃদয়ের এই ছায়া।’
রোজা রাখার ফলে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘসময় বিরতি পায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বছরের বাকি ১১ মাস আমাদের পাকস্থলী ও অন্ত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যায়, যার ফলে হজম প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা আসতে পারে। রোজা পালনের সময় দীর্ঘক্ষণ উপবাস থাকার ফলে পাকস্থলী তার হারানো শক্তি ফিরে পায় এবং পরিপাক গ্রন্থিগুলো নতুন উদ্যমে এনজাইম নিঃসরণ করতে সক্ষম হয়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের মতো সমস্যা দূর করে সামগ্রিক হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন বের করে দেওয়ার এক অনন্য মাধ্যম হলো রোজা বা ডিটক্সিফিকেশন। যখন আমরা না খেয়ে থাকি, তখন শরীর তার সঞ্চিত চর্বি পোড়াতে শুরু করে এবং এই চর্বিতে দ্রবীভূত থাকা টক্সিনগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে লিভার ও কিডনিতে গিয়ে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন, রোজা রাখার ফলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়, যা আধুনিক ‘ডিটক্স ডায়েট’ এর চেয়েও কার্যকর।
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিতে রোজার ভূমিকা অপরিসীম যা বর্তমান যুগের মেটাবলিক সিনড্রোম প্রতিরোধে সহায়ক। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার ফলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণের চাপ কমে যায় এবং কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি অধিক সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। অনেক গবেষক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিয়ন্ত্রিত উপবাসকে একটি থেরাপি হিসেবে গণ্য করেন।
অতিরিক্ত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রোজা একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। উপবাসের সময় শরীর শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘কেটোসিস’ প্রক্রিয়া বলা হয়। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের ওজন হ্রাস পায় এবং স্থ’লতাজনিত জটিলতাগুলো দূর হয়। কোনো কৃত্রিম ওষুধ বা কঠোর ব্যায়াম ছাড়াই রোজা বিপাক হার বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে রোজার বিকল্প নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন দিন বা তার বেশি সময় রোজা রাখলে শরীরের পুরনো শ্বেত রক্তকণিকাগুলো পুনরুৎপাদিত হয় এবং নতুন স্টেম সেল তৈরি হয়। এটি রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে সংক্রমণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এই ‘ইমিউন রিবুটিং’ প্রক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শরীরের অভ্যন্তরে জমে থাকা ক্ষতিকারক মেদ বা চর্বি গলাতে রোজা অনন্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে লিভার ও ধমনীতে জমে থাকা চর্বি রোজার কারণে কমে যায়, যা ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সহায়ক। দীর্ঘমেয়াদি উপবাসের ফলে শরীরের লিপিড প্রোফাইল উন্নত হয় এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমে যায়। এটি শারীরিক গঠনকে সুঠাম করতে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রোজা সরাসরি কাজ করে বলে অনেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। রোজা রাখলে হোমোসিস্টাইন নামক উপাদানের মাত্রা কমে যায়, যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া রোজা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রোজা পালন করেন, তাদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রোজা একটি ওষুধের মতো কাজ করে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্বীকৃত। রোজা রাখার ফলে শরীরের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয় এবং রক্তনালীর প্রসারণ ঘটে, যার ফলে রক্তচাপ কমে আসে। এছাড়া শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণের নিঃসরণ ঘটে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য নিয়ন্ত্রিত খাবারের পাশাপাশি রোজার অভ্যাস গড়ে তুলতে পরামর্শ দেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা রক্তের গ্লুকোজ লেভেল ঠিক রাখতে রোজা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। রোজার সময় যকৃত বা লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে শক্তি জোগায়, যার ফলে রক্তে চিনির মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। এটি প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়কে বিশ্রাম দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। তবে ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে রোজা জাদুর মতো কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে উপকারী কোলেস্টেরল বা এইচডিএল এর মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিকারক এলডিএল কমে যায়। এর ফলে ধমনীতে ব্লক তৈরির প্রবণতা হ্রাস পায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। রক্তের চর্বি কমাতে রোজা একটি প্রাকৃতিক ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
শরীরের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ‘সাইটোকাইনস’ এর মাত্রা কমে যায়। ফলে ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই জয়েন্টের ব্যথা বা শারীরিক প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমি প্রমাণ করেছেন যে, উপবাসের ফলে শরীরে ‘অটোফ্যাজি’ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। অটোফ্যাজি হলো- এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শরীর নিজের জীর্ণ, মৃত বা রোগাক্রান্ত কোষগুলো ভক্ষণ করে ধ্বংস করে ফেলে এবং শরীরকে পরিষ্কার করে। রোজা রাখলে কোষের আবর্জনা পরিষ্কার হয়, যা বার্ধক্য রোধে এবং দীর্ঘায়ু লাভে সহায়তা করে।
ক্যান্সার কোষ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে রোজা সহায়ক হতে পারে বলে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। রোজা রাখলে ক্যান্সার কোষগুলো পুষ্টি পায় না, ফলে তাদের বৃদ্ধি থমকে যায়। অন্যদিকে সুস্থ কোষগুলো উপবাসের সময় নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায়। অনেক ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে ডাক্তাররা রোগীকে উপবাসের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মানসিক প্রশান্তি ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে রোজা এক অনন্য আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। রোজা রাখলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মানুষকে আনন্দিত ও শান্ত রাখে। দীর্ঘ সময় সংযম পালনের ফলে মন ও মস্তিষ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আধুনিক যুগের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। এটি বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা কমিয়ে মনকে নির্মল করে।
মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও তীক্ষè রাখতে রোজা বা উপবাস অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রোজার সময় ব্রেন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (BDNF) নামক এক ধরনের প্রোটিনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনের মতো স্নায়বিক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। রোজা রাখলে মনোযোগ বা কনসেন্ট্রেশন ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পাকস্থলীর এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রোজার ভূমিকা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ইতিবাচক। সঠিক নিয়ম মেনে সেহরি ও ইফতার করলে এবং অতিভোজন না করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে আসে। রোজা পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেনকে পুনর্গঠিত হতে সময় দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস্ট্রিক আলসার নিরাময়ে সহায়ক হতে পারে।
লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে রোজা একটি মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। লিভারে জমে থাকা চর্বি (Fatty Liver) পোড়াতে রোজা সাহায্য করে এবং লিভারের এনজাইমগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখে। আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাপে লিভার যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন রোজা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ দেয়। এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন ও অতিরিক্ত আহারের আসক্তি কমাতে রোজা অত্যন্ত কার্যকর প্রশিক্ষণ। মানুষ সাধারণত অভ্যাসবশত প্রয়োজনে বেশি খেয়ে ফেলে, কিন্তু রোজা মানুষকে পরিমিতবোধ শেখায়। রোজার ফলে ক্ষুধার হরমোন ‘ঘেরলিন’ এবং তৃপ্তির হরমোন ‘লেপটিন’ এর মধ্যে ভারসাম্য ফিরে আসে। এটি ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে যা সারাবছর সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
নতুন কোষ গঠন ও শরীরের কোষীয় মেরামতে রোজা এক অনন্য সুযোগ প্রদান করে। যখন শরীর বাইরের খাবার হজম করার ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পায়, তখন সে সমস্ত শক্তি ব্যয় করে শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং নতুন টিস্যু তৈরিতে। এটি ক্ষত নিরাময় ত্বরান্বিত করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ার ফলেই রোজাদার ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে নবীনত্ব অনুভব করেন।
শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধার ও জীবনীশক্তি বৃদ্ধিতে রোজা আশ্চর্যজনক ফলাফল দেয়। যদিও সাময়িকভাবে কিছুটা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের ভাইটালিটি বা জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে। শরীর যখন অপ্রয়োজনীয় চর্বি ও টক্সিন থেকে মুক্ত হয়, তখন সে অনেক বেশি হালকা ও কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। রোজা পালন শেষে অধিকাংশ মানুষ এক ধরনের অনাবিল শারীরিক শক্তি ও সতেজতা অনুভব করেন যা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ইসলামের এই শাশ্বত বিধানের মাহাত্ম্য তুলে ধরে কবি গোলাম মোস্তফা লিখেছেন: ‘রোজার এই পবিত্র মাসে শান্তি নামে ধরায়, দেহের সঙ্গে মনটাকেও শুদ্ধি করে পরায়।’ রোজার এই বৈজ্ঞানিক দিকগুলো অনুধাবন করা এবং সঠিক নিয়ম মেনে রোজা পালন করা আমাদের সকলের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, রোজা শুধু ধর্মীয় উপাসনা নয়, বরং এটি মানবদেহের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান রোজার যে বহুমুখী উপকারিতা আবিষ্কার করেছে, তা আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ইসলামের বিধান হিসেবে প্রবর্তিত হয়েছিল। সুস্থ দেহ ও প্রশান্ত মনের জন্য রোজার গুরুত্ব অপরিসীম।
