পাহাড় কাটা বন্ধে সঠিক উদ্যোগ জরুরি

মুহিবুল হাসান রাফি

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় জয়পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পরেশন (বিপিসি)। পাহাড় কাটার সত্যতা পেয়ে বিপিসিকে নয় লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধের আদেশসহ কাটা স্থান পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর আগে এই অভিযোগে ওএসডি করা হয়েছে বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসানকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা। এদিকে পাহাড় কাটার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, চট্টগ্রাম মহানগরে এভাবে একের পর এক পাহাড় ধ্বংস করা হলে ভূমিধসের ঝুকি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। একই সঙ্গে নগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, পাহাড়ধসে নিভছে মানুষের প্রাণ। বিপরীতে বিকশিত হচ্ছে লুটেরাদের ভোগবাদী জীবন-যাপন। বাড়ছে লুটেরা পুজির দাপট। ২০০৭ সালের ভূমিধসে ১২৮ জনের মৃত্যুসহ অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। প্রতি বছরই পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কাটা পরিবেশগত বিপর্যয় এবং ভূমিধসের প্রধান কারণ যেটা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্প ও আবাসন নির্মাণের নামে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কর্তৃক এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পরিবেশগত অবক্ষয় রোধ করতে হবে। পাহাড় কেটে মাটি পরিবহনের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবেশগত অবক্ষয় ঘটছে। প্রতি বর্ষায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে ভূমিধসে ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের উদাসীনতায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে পাহাড় কাটা চলছে। পাহাড় কাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি প্রশাসনকে যৌথ অভিযান জোরদার করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে পাহাড় রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাহাড় কাটার পরিবর্তে সমতল ভূমি বা পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি।

মনে রাখতে হবে, পাহাড় হলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী পৃথিবীর পেরেক, একে রক্ষা করা আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই অপরিহার্য।

মুহিবুল হাসান রাফি

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ