বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব ঘাটতি উপড়ে ফেলতে হবে অনিয়ম

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের স্থলবাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে বেনাপোল স্থলবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এই বন্দর ঘিরেই পরিচালিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরকেন্দ্রিক অনিয়ম, শুল্ক ফাঁকি এবং দুর্বল তদারকির একাধিক অভিযোগ আবারও প্রশ্ন তুলেছে বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই প্রায় ১৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির তথ্য সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো হ্রাস ঘটেনি। বরং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্য আমদানি বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয়ও বাড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ঠিক উলটো চিত্র-লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিপুল রাজস্ব ঘাটতি। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিথ্যা ঘোষণা, পণ্যের মূল্য কম দেখানো, উচ্চ শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের নামে আনা কিংবা ঘুসের বিনিময়ে শুল্ক কমিয়ে দেওয়ার মতো নানা কৌশলে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো- এই ধরনের অনিয়ম শুধু রাজস্ব ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা ঘোষণার চালান বিদেশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়লে তা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। বন্দরে স্ক্যানার থাকলেও তা সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা হয় না বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।

এ অবস্থায় শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান বা কয়েকটি চালান জব্দ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন পদ্ধতিগত সংস্কার। কাস্টমস ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো, প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ চালানের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বেনাপোল বন্দর দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার। সেখানে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের আধিপত্য চলতে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু রাজস্ব নয়- ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বাণিজ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা। তাই সময় থাকতে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।