বিশ্বের স্বাধীনতার ইতিহাস
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ সালের ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর পরবর্তী মাইলফলক স্পর্শকারী এক মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ থেকে পঞ্চান্ন বছর আগে এই দিনে যে লাল-সবুজের পতাকার জন্ম হয়েছিল, তার পেছনে ছিল হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক মহাকাব্যিক সংগ্রাম। স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ নয়, এটি একটি মানচিত্রের হৃৎস্পন্দন, একটি জাতির নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার। সভ্যতার উষালগ্ন থেকে মানুষ যখনই পরাধীনতার নাগপাশে আবদ্ধ হয়েছে, তখনই তার রক্তে জেগে উঠেছে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কবিগুরুর ভাষায়, ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়।’ স্বাধীনতার এই জয়গান শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণার অধিকার আদায়ের গল্প।
‘স্বাধীনতা’ শব্দটির মূল নিহিত রয়েছে লাতিন ‘Libertas’ শব্দের মধ্যে, যা থেকে ইংরেজি ‘Liberty’ শব্দটির উৎপত্তি। এর সাধারণ অর্থ হলো কোনো বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ক্ষমতা। প্রাচীন গ্রিসে স্বাধীনতা ছিল শুধু নগররাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য, দাসেদের সেখানে কোনো স্থান ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ফরাসি বিপ্লবের ‘সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা’র স্লোগান এই শব্দটিকে একটি বৈশ্বিক ও মানবিক রূপ দান করেছে। বর্তমানে স্বাধীনতা মানে শুধু একটি ভূখণ্ড বা পতাকা নয়, এটি হলো বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা এবং অভাব ও ভয় থেকে মুক্তি।
ইতিহাসের পাতায় স্বাধীনতার বিবর্তন এক রক্তাক্ত ও বন্ধুর পথ। আদিম সমাজে গোত্রপতিদের শাসনে স্বাধীনতা ছিল সীমিত। মধ্যযুগে সামন্ততন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষ স্বাধীনতার অর্থ বুঝত শুধু বেঁচে থাকার অধিকার হিসেবে। রেনেসাঁ বা নবজাগরণের ফলে মানুষের চিন্তার জগতে যে বিপ্লব ঘটে, তার হাত ধরেই জন্ম নেয় আধুনিক স্বাধীনতার ধারণা। ম্যাগনাকার্টা থেকে শুরু করে মার্কিন স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রুশ বিপ্লব পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনাই স্বাধীনতার সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজিয়েছে। বিংশ শতাব্দীতে এসে উপনিবেশবাদের পতনের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে একের পর এক স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের সাথে যুক্ত হয়েছে।
অতীতের স্বাধীনতা ছিল মূলত দৃশ্যমান শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই বা মুঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে শত্রু ছিল চিহ্নিত। হাতে তলোয়ার বা বন্দুক নিয়ে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলেই জয়ের সম্ভাবনা থাকত। বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ আর শুধু মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের মধ্যে। এখনকার পরাধীনতা অনেক সময় অদৃশ্য; ঋণের জাল, তথ্যের ম্যানিপুলেশন এবং বড় শক্তির ভূ-রাজনৈতিক খেলায় ছোট দেশগুলো প্রায়শই তাদের সার্বভৌমত্ব হারাচ্ছে। সেকালে রক্ত দিয়ে মানচিত্র কেনা যেত, কিন্তু একালে একটি দেশকে স্বাধীন রাখতে হলে প্রতিদিন প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং মেধার লড়াইয়ে জিততে হয়।
এই পর্যায়ে আমরা দেখব বিশ্বের প্রথম কয়েকটি দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির উপাখ্যান সান মারিনো পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন প্রজাতন্ত্র। ৩০১ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট মারিনাস নামক এক পাথরখোদাই শিল্পী ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তিতানো পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে এই জনপদের পত্তন করেন। ফ্রান্সের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্বের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ক্লভিসের নেতৃত্বে ফ্রাঙ্কিশ উপজাতিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু। ফরাসি বিপ্লব ১৭৮৯ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল।
জাপান বা নিহন কোনোদিন বিদেশি শক্তির দ্বারা সরাসরি উপনিবেশিত হয়নি। যিশুর জন্মের অনেক আগে থেকেই জাপানের সম্রাটরা এই দ্বীপরাষ্ট্র শাসন করে আসছেন। মেজি পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে জাপান তার মধ্যযুগীয় কাঠামো ভেঙে এক আধুনিক ও স্বাধীন শক্তিশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়।
সাদা পাহাড়ের দেশ হিসেবে পরিচিত চীন কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার অধিকারী। কুইন রাজবংশের সময় থেকে চীনের যে কেন্দ্রীয় শাসন শুরু হয়েছিল, তা অনেক রাজবংশ ও মঙ্গোল আক্রমণের মধ্য দিয়েও নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। ১৯৪৯ সালের বিপ্লব আধুনিক চীনের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দেশ হিসেবে ডেনমার্কের পরিচিতি। ভাইকিংদের সময় থেকেই ডেনিশরা একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে নিজেদের বজায় রেখেছে। দশম শতাব্দীতে রাজা প্রথম হ্যারাল্ডের মাধ্যমে ডেনমার্ক একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
ইউরোপের গ্রিসের স্বাধীনতা প্রাচীন অলিম্পিক ও দর্শনের মতোই গৌরবের। ১৮২১ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গ্রিকরা স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৮৩০ সালে লন্ডন প্রোটোকলের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
ইথিওপিয়া আফ্রিকার একমাত্র দেশ যারা ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের চরমকালেও নিজের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেছিল। সম্রাট দ্বিতীয় মেনেলিক ১৮৯৬ সালে আদোয়ার যুদ্ধে ইতালীয় বাহিনীকে পরাজিত করে প্রমাণ করেছিলেন যে, কালো মানুষেরাও বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের মাটি রক্ষা করতে পারে।
১১৩৯ সালে পর্তুগাল একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজা প্রথম আলফনসো মুরদের হটিয়ে এই অঞ্চলের স্বাধীনতার পথ সুগম করেন। ৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে পৃথিবীর প্রাচীনতম সংসদ ‘আলথিং’ গঠনের মাধ্যমে আইসল্যান্ড তাদের স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। ১৯৪৪ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে তারা পুনরায় পূর্ণ স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই ধাপে আমরা আলোকপাত করব বিশ্ব ইতিহাসে কয়েকজন মহানায়কের কথা, যারা মানব মুক্তির ধ্রুবতারা হিসেবে আজও বিশ্বের অগণিত মানুষের অন্তরে বিরাজমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, যার একটি তর্জনীর ইশারায় একটি নিরস্ত্র জাতি সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- তার এই অমিয় বাণী আজও বিশ্বজুড়ে শোষিত মানুষের প্রেরণা।
মহাত্মা গান্ধী অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন এই মহামানব। তার মতে, স্বাধীনতা মানে শুধু ক্ষমতার হস্তান্তর নয়, বরং মানুষের অন্তরের মুক্তি। নেলসন মেন্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই প্রতীক ২৭ বছর কারাবরণ করেও আপস করেননি। তিনি শিখিয়েছেন, ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই পারে একটি জাতিকে স্বাধীন করতে।
জর্জ ওয়াশিংটন আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি। ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে ১৩টি কলোনিকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি আধুনিক গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। সিমোন বলিভার লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মুক্তির দূত। ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডরসহ বহু দেশকে স্প্যানিশ শাসন থেকে মুক্ত করার জন্য তাকে ‘এল লিবারেটর’ বলা হয়। মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক আধুনিক তুরস্কের জনক। উসমানীয় সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিক তুর্কি রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। হো চি মিন ভিয়েতনামের স্বাধীনতার স্থপতি। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেও তিনি ফরাসি ও মার্কিন শক্তির বিরুদ্ধে ভিয়েতনামি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। মাও সে তুং আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি চীনের কৃষকদের ও সাধারণ মানুষকে শোষণের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার বিপ্লবের এই নায়ক মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে একটি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রকে সার্বভৌম রাখার লড়াইয়ে আমৃত্যু লড়ে গেছেন।
আহমেদ সুকর্ণ ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার রূপকার। ডাচ শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি হন এবং এশীয়-আফ্রিকীয় দেশগুলোর ঐক্যে ভূমিকা রাখেন। নিবন্ধের এই ধাপে অতি সংক্ষেপে আলোকপাত করব বিশ্বের সর্বশেষ পাঁচটি দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির তথ্য-
দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালের ৯ জুলাই এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর সুদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সর্বশেষ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটি ছিল আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ বিভক্তির ফল। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কসোভো সার্বিয়া থেকে নিজের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। দীর্ঘ সময় জাতিগত দাঙ্গা ও ন্যাটোর হস্তক্ষেপের পর এই ইউরোপীয় রাষ্ট্রটি তার সার্বভৌমত্ব লাভ করে, যদিও কিছু দেশ আজও একে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০০৬ সালে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর ইউনিয়ন থেকে মন্টিনিগ্রো আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। একটি শান্তিপূর্ণ গণভোটের মাধ্যমে এই স্বাধীনতা অর্জন বলকান অঞ্চলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। ২০০২ সালের ২০ মে পূর্ব তিমুর ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। দীর্ঘ ২৫ বছরের সংগ্রাম ও আন্তর্জাতিক চাপে তারা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ফিরে পায়। ১৯৯৪ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টশিপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। এটি ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডিকলোনাইজেশন প্রক্রিয়ার অন্যতম শেষ ধাপ।
এই নিবন্ধের পূর্ণতার পূর্বে বিশ্বের বৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির কয়েকটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইতিহাস ছোট করে যুক্ত করছি-
দীর্ঘ সময় ধরে কৃষ্ণাঙ্গদের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আব্রাহাম লিংকনের হাত ধরে আমেরিকায় এবং উইলিয়াম উইলবারফোর্সের প্রচেষ্টায় ব্রিটেনে এই অমানবিক দাসপ্রথা বিলুপ্তি ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য ও কৃষ্ণাঙ্গদের মানবেতর জীবন ছিল আধুনিক বিশ্বের কলঙ্ক। মেন্ডেলার লড়াই এই দেয়াল ভেঙে দিয়ে রঙভেদে মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো ব্রিটিশ, ফরাসি ও পর্তুগিজ বা উপনিবেশবাদ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার যে ঢেউ উঠেছিল, তা পৃথিবীর মানচিত্রকে আমূল বদলে দিয়েছে। সুফরাজিস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে নারীরা প্রথম তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি তোলে। এটি ছিল গৃহকোণ থেকে বের হয়ে পৃথিবীতে পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব লাভের এক অনন্য মুক্তি সংগ্রাম।
পরিশেষে, স্বাধীনতা কোনো স্থির বস্তু নয়, এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বিশ্বের স্বাধীনতার ইতিহাস পর্যালোচনা করি, তখন দেখি রক্ত আর ত্যাগের বিনিময় ছাড়া কোনো বড় অর্জন সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতা মানে শুধু ভিনদেশি শাসককে বিদায় করা নয়, বরং ক্ষুধা, দারিদ্র?্য, কুসংস্কার এবং দুর্নীতির হাত থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি দেওয়া। জীবনানন্দ দাশের ভাষায়, ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ।’ সেই সুন্দরতম স্থানটি হলো স্বাধীন স্বদেশ। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যেন তার নিজস্ব সত্ত্বায় স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। স্বাধীনতার সূর্য যেন কখনও অস্তমিত না হয়, তার আলোয় ধুয়ে মুছে যাক পৃথিবীর সব বৈষম্য আর হাহাকার।
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ও প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সংগঠন ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল এন্টি অ্যালকোহল
