অস্থির বিশ্ব, জ্বালানি ঝুঁকি : বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও নীতিমূলক রূপরেখা

জুবাইয়া বিন্তে কবির

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেন এক অদৃশ্য ঝড়ের মতো নীরবভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত কেবল একটি আঞ্চলিক সংকট নয়; এটি বহুদূর বিস্তৃত প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। বাংলাদেশের মতো তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এই উত্তেজনা এক স্বপ্নভঙ্গের সতর্কবার্তা, যা শুধু দূরদর্শিতার চ্যালেঞ্জ নয়, বরং বাস্তবিক নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড- শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিদিন তেলের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত চ্যানেলে সামান্য অস্থিতিশীলতাও দেশের জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তোলে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতকে অনিশ্চয়তার স্রোতে ফেলে। এর প্রভাব কেবল দাম বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়, শিল্প উৎপাদন স্থবির হয়, আর জাতীয় আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই সংকট যেন আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, যে শক্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন সহজ হয় না, এবং প্রস্তুতি, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের সতর্কতা ছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রে জ্বালানি যেন এক অনিবার্য প্রাণনালী। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও কারখানা, কৃষি চাষাবাদ, পরিবহন প্রায় প্রতিটি খাত সরাসরি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত চ্যানেলে সামান্য অস্থিতিশীলতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব মুহূর্তের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিফলিত হয়। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি এবং শিল্প খাতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার সম্ভাবনাকে প্ররোচিত করে। বাংলাদেশে তেলের মজুত সীমিত এবং স্থানীয় উৎপাদন খুবই নগণ্য। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সাময়িকভাবে আমদানি করা হলেও, সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি সরবরাহকে অনিশ্চিত করে তোলে। এর ফলশ্রুতিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং দেশের আর্থিক প্রবাহে অসুবিধা তৈরি হয়। তেলের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে পণ্য ঘাটতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ লাইন, আতঙ্কজনিত কেনাকাটা, খাদ্য সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এই দৃশ্যগুলো দ্রুত জনগণের মানসিক চাপ ও অসন্তোষকে তীব্র করে। স্বল্পমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের পদক্ষেপ জরুরি। শুধুমাত্র মজুত বৃদ্ধি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়; জনগণকে সচেতন করা, বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সুশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাও সমানভাবে অপরিহার্য। প্রয়োজন এক সুসংহত এবং প্রতিরোধী পরিকল্পনা, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নিশ্চিত করতে সক্ষম।

মধ্যমেয়াদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের উৎপাদন খাত ও রপ্তানি শিল্পে বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়। তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিপিং খরচের উত্থান তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক, সিমেন্ট, ইস্পাত ও রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং ঊর্ধ্বমুখী খরচের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা হ্রাস পায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে গ্রাহক অন্য দেশে পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী হয়, যার ফলে রপ্তানি আয় কমে এবং শিল্প খাত দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখোমুখি হয়। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে। এর ফলশ্রুতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, বিনিময় হার অস্থির হয়ে ওঠে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতার কারণে তাদের আয় হ্রাস পেলে দেশে প্রবাহিত রেমিট্যান্সও হ্রাস পায়। এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারের কার্যক্রমকে দুর্বল করে দেয়। মধ্যমেয়াদে দেখা যায় যে এই সংঘাত শুধুমাত্র জ্বালানি আমদানিতেই প্রভাব ফেলে না; বরং বৈদেশিক বাণিজ্য, শ্রমশক্তি এবং রেমিট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপাদানগুলোর ওপরও তা সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য কৌশল হলো সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অস্থিরতা মোকাবিলায় কৌশলগতভাবে প্রস্তুত রাখা।

জাতীয় সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ : দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন সীমিত, এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা খুব বেশি। এর ফলে আন্তর্জাতিক সংকট বা সংঘাতের সময় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। দেশের শক্তি উৎপাদন ও সরবরাহে বৈচিত্র্য আনা অপরিহার্য। নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস যেমন সৌর, বায়ু ও জ্বালানি দক্ষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থায় দূরদর্শিতা, সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং বাজার অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দুর্নীতি, অবৈধ আমদানি ও মজুতদারি রোধ করা এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকটকে শুধু চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। যদি সরকার কার্যকর নীতি গ্রহণ করে, জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনে, তাহলে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে।

সংঘাতজনিত এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য হলো বাস্তবমুখী নীতি ও সুসংগঠিত পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহের মধ্যে মূল বিষয়গুলো হলো-

জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ: হরমুজ প্রণালির ওপর একমাত্র নির্ভরতা কমাতে ভারত, ওমান, কাতার এবং অন্যান্য বিকল্প পাইপলাইন ও সরবরাহ চ্যানেল তৈরি করা জরুরি। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বৈশ্বিক অস্থিরতার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখবে।

মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি: ডিজেল, অকটেন এবং এলএনজির ন্যূনতম ১৫–২০ দিনের মজুত নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ অপরিহার্য। এটি সাময়িক অস্থিতিশীলতার সময় দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন কমাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো, শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বিনিয়োগে প্রণোদনা প্রদান এসব পদক্ষেপ শিল্প খাতকে অপ্রত্যাশিত সংকট থেকে রক্ষা করবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। রেমিট্যান্স চ্যানেলকে বৈশ্বিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের আয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি রোধ এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর উন্নয়ন দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করবে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব হ্রাস করবে। জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান ও বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধ করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া গ্রহণ এসব পদক্ষেপ জরুরি। এই সুপারিশগুলো শুধুমাত্র ক্ষণস্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি দেশের জাতীয় সক্ষমতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি বিস্তৃত নীতিমূলক রূপরেখা। বাংলাদেশের তেলের মজুত সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। এই সীমাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সংকট খুব দ্রুত মজুত এবং আমদানি শৃঙ্খলায় সমস্যা তৈরি করে। তাই সরকারের দায়িত্ব শুধু তেলের মজুত বৃদ্ধি নয়, বরং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা, বাজার নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা এবং জনগণকে সচেতন করার ওপরও সমানভাবে মনোযোগ দেওয়া। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের অভাব, পেট্রলপাম্পে অসৎ ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এসব কারণে সাধারণ জনগণ মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছে। যদিও সরকার সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে, তবে তা খুব সীমিতভাবে কার্যকর হয়েছে। সুতরাং বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য হলো জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ চেইন, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে তথ্যভিত্তিক সচেতনতার মাধ্যমে শক্তিশালী নীতি প্রয়োগ, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০–১৩০ ডলারে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এটি ১৫০–২০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে—২০০৮ ও ২০২২ সালের তেলের সংকটের সময় সরবরাহ চেইন, মজুত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশীয় অর্থনীতিকে প্রায় মুহূর্তের মধ্যে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

বাংলাদেশের মতো তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুতর হুমকি। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত, কৃষি ও পরিবহন প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামার সঙ্গে যুক্ত। এই পরিস্থিতি জনগণের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।

বাংলাদেশকে বহিরাগত সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এখনই প্রয়োজন দৃঢ? ও সমন্বিত প্রস্তুতি। জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সাশ্রয়ী নীতি কার্যকর করা এসব পদক্ষেপ একদিকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে জনগণের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রত্যাশিত ভোগান্তি কমাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শিল্পে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, এবং রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক শ্রমবাজারে কৌশলগত বৈচিত্র্য আনা এসব উদ্যোগ শুধু ঝুঁকি হ্রাস নয়, বরং জাতীয় সক্ষমতা এবং টেকসই উন্নয়নের দৃঢ? ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জনগণ যখন তেলের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের ফলে দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তির মুখোমুখি হয়, তখন সরকারের কার্যকর, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত নীতি তাদের আস্থা পুনঃস্থাপন করবে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমি দেশের সরকারি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এটি শুধু অস্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত নীতিমূলক রূপরেখা, যা জাতীয় সক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক শান্তি নিশ্চিত করবে। যদি সময়োপযোগী এবং বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সংঘাত বা জ্বালানি সংকটের সময়ও টেকসই উন্নয়নের পথে অদম্য গতিতে অগ্রসর হতে পারবে।

জুবাইয়া বিন্তে কবির

অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট